বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন কমিটি গঠনের পরদিনই এলো প্রথম বড় পরিবর্তনের খবর। পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। রাজশাহী বিভাগ থেকে ক্যাটেগরি-১ বা জেলা-বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া এই পরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন সোমবার, যা ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছে বিসিবি।
যদিও তার পদত্যাগের গুঞ্জন নতুন ছিল না। নির্বাচনের আগেই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে গঠনতন্ত্রের বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে। অবশেষে রোববার সন্ধ্যায় বিসিবির প্রথম জরুরি সভায় নিজের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান সীমান্ত। পরদিনই জমা দেন পদত্যাগপত্র।
এবারের বিসিবি নির্বাচনে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট যে কজন পরিচালক ছিলেন, সীমান্ত তাদের অন্যতম। তার বাবা মীর শাহে আলম বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক ও পারিবারিক ব্যস্ততার প্রভাবই শেষ পর্যন্ত বিসিবির দায়িত্ব থেকে তাকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে বলে জানা গেছে।
পদত্যাগপত্রে সীমান্ত উল্লেখ করেছেন, পারিবারিক ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বর্তমানে তার ওপর এসে পড়েছে। সেই কারণে বিসিবির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হবে না।
পরে বিএনপির মিডিয়া সেল থেকেও সামাজিক মাধ্যমে তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সেখানে সীমান্তর বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হয়।
“তার পিতা সরকারের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় বর্তমানে পারিবারিক ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত রয়েছে। এ কারণে বিসিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না।
দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বিবেচনায় তিনি পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য বিসিবি সভাপতির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।”
নতুন বোর্ড গঠনের পরপরই এমন পদত্যাগ বিসিবির প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ এবারের নির্বাচনে ৮ জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া রোববার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন আরও ১৫ জন পরিচালক। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়নে বোর্ডে যুক্ত হয়েছেন আরও দুই পরিচালক।
সীমান্তর পদত্যাগের ফলে এখন রাজশাহী বিভাগে পরিচালক পদটি শূন্য হয়ে গেল। বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এই শূন্য পদ পূরণে সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
নতুন কমিটি গঠনের পর বোর্ডের কার্যক্রম যখন পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হওয়ার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই একজন পরিচালকের সরে দাঁড়ানো প্রশাসনিক সমীকরণে নতুন প্রশ্নও তৈরি করেছে। তবে সীমান্ত নিজের সিদ্ধান্তকে দেখছেন দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে-যেখানে ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে দায়িত্ব পালনে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আগেই সরে দাঁড়ানোর পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।










Discussion about this post