আর কয়েক ঘণ্টা পরই ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ডুবে যাবে পুরো পৃথিবী। শহরের মোড় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অফিসের আড্ডা থেকে রাতজাগা ক্যাফে-সবখানেই তখন ঘুরে ফিরবে ফুটবলের গল্প। এমন সময়েই মিরপুরে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ। সময়টা ক্রিকেটের জন্য খুব সুবিধাজনক না হলেও অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিস মনে করছেন, এই সিরিজ আলাদা এক রোমাঞ্চ তৈরি করবে।
বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে ১১ জুন, মেক্সিকোর বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে। তার আগেই মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজ। বিশ্বকাপের বিশাল আয়োজনের পাশে ক্রিকেট সিরিজটি হয়তো বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে না, কিন্তু দুই দলের ভেতরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে বেশ আগ্রহী ইংলিস।
সিরিজ শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এই সিরিজ (বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া) খুবই রোমাঞ্চকর হচ্ছে। আগেই বলেছি, অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ একে অপরের মুখোমুখি বেশি হয় না।”
আসলে সেটিই এই সিরিজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। তাই তাদের প্রতিটি সিরিজেই থাকে আলাদা কৌতূহল। বিশেষ করে বাংলাদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার খেলার অভিজ্ঞতাও খুব বেশি নয়। ২০২১ সালে শেষবার বাংলাদেশে এসে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল তারা। সেই সফরের স্মৃতি এখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি।
ইংলিস নিজেও বাংলাদেশে খেলতে এসে নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অনেক রোমাঞ্চিত আমরা। বাংলাদেশের সঙ্গে খুব বেশি খেলা হয় না, বিশেষ করে বাংলাদেশের মাঠে। প্রথমবার আমি এসেছি এখানে। অনেকেই এসেছে প্রথমবার।”
বাংলাদেশের বর্তমান দলটিও আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে তাদের পারফরম্যান্স বদলে দিয়েছে দলের মানসিকতা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড-তিন দলই সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে সিরিজ হারিয়ে গেছে। ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত ধারাবাহিক, বোলিংয়ে নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান আক্রমণাত্মক, আর ফিল্ডিংয়েও এসেছে দৃশ্যমান উন্নতি।
এই বাস্তবতাই অস্ট্রেলিয়াকে ভাবাচ্ছে। ইংলিস স্পষ্টই বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা সহজ হবে না। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের সঙ্গে খেলাটা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। ঘরের মাঠে তারা অবশ্যই অনেক ভালো দল। আমরা সবাই এই সিরিজ নিয়ে বেশি রোমাঞ্চিত। এখনো দল ঠিক করিনি। উইকেট ভালোভাবে দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।”
এই বক্তব্যে যেমন প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান আছে, তেমনি আছে মিরপুরের কন্ডিশন নিয়ে সতর্কতাও। বাংলাদেশের উইকেট বরাবরই বিদেশি দলগুলোর জন্য কঠিন পরীক্ষা। বিশেষ করে স্পিন, ধীরগতির পিচ ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলোর জন্যও সহজ হয় না।
বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কারণে। সাম্প্রতিক সাফল্য যে কেবল ছোট দলগুলোর বিপক্ষে সীমাবদ্ধ নয়, সেটি প্রমাণের বড় সুযোগ এটি। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে সেটি বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্ত করবে।
ওয়ানডে সিরিজের তিনটি ম্যাচ হবে মিরপুরে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ যথাক্রমে ১১ ও ১৪ জুন। এরপর দুই দল যাবে চট্টগ্রামে। ১৭, ১৯ ও ২১ জুন বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।









Discussion about this post