দীর্ঘ ১৫ বছরের অপেক্ষার পর ঘরের মাঠে আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে আজ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া ম্যাচ দিয়ে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে চায় টাইগাররা। যেখানে টস হেরে আজ শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ।
সর্বশেষ ২০১১ সালে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজে তিন ম্যাচেই হেরে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে সময় বদলেছে, বদলেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটও। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে এবার আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছে মেহেদি হাসান মিরাজের দল।
পরিসংখ্যান অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলে না। ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ২২ বার মুখোমুখি হয়ে মাত্র একবার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই ঐতিহাসিক জয়টি এসেছিল ২০০৫ সালে কার্ডিফে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে। সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছিল টাইগাররা। ১০১ বলে ১০০ রানের সেই ইনিংস এখনও বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। কাকতালীয়ভাবে বর্তমানে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করছেন সেই আশরাফুলই।
তবে অতীতের হিসাব নয়, বর্তমান ফর্মই বাংলাদেশের বড় শক্তি। গত ছয় মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। ফলে সিরিজ জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পাশাপাশি বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগও দেখছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে এই সিরিজ।
বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ সিরিজ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, অনেক দিন পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এবং দল হিসেবে সবাই এ নিয়ে রোমাঞ্চিত। তার মতে, ভালো শুরু করতে পারলে সেটি পুরো দলের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সহজ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে এবং ম্যাচ জিততে হবে।
মিরপুরের উইকেট নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এই সিরিজে সবুজ উইকেট ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পেসারদের জন্য সহায়ক হতে পারে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ সিরিজেও এমন উইকেটে পেসাররা সফলতা পেয়েছিলেন। বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জশ ইংলিশ জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সিরিজ পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং নতুন বলে সুইং ও পেস সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছেন।
অস্ট্রেলিয়া এই সিরিজে নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল মার্শ ও বিধ্বংসী ওপেনার ট্রাভিস হেডকে ছাড়াই খেলতে নামছে। তবে এটিকে তরুণ ক্রিকেটারদের যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছেন ইংলিশ। তার মতে, বিশ্বকাপের আগে বিভিন্ন কম্বিনেশন পরীক্ষা করা এবং তরুণদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাথান এলিস, জেভিয়ার বার্টলেট ও বেন ডোয়ারশাইসের মতো পেসারদের ওপরও আস্থা প্রকাশ করেছেন তিনি।
দুই দলের সর্বশেষ ওয়ানডে লড়াই হয়েছিল ২০২৩ বিশ্বকাপে। সেই ম্যাচে মিচেল মার্শের ১৭৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ৩০৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে বর্তমান বাস্তবতায় ঘরের মাঠে বাংলাদেশকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত ওয়ানডেতে দুই হাজার রানের মাইলফলক থেকে মাত্র ৮৬ রান দূরে রয়েছেন। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার প্রয়োজন আর মাত্র তিন উইকেট। তাহলেই তিনি ওয়ানডেতে ২০০ উইকেটের ক্লাবে প্রবেশ করবেন।
সব মিলিয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শুধু জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, থাকছে আত্মপ্রমাণের মঞ্চ, বিশ্বকাপ প্রস্তুতির পরীক্ষা এবং ব্যক্তিগত মাইলফলকের হাতছানি। মিরপুরে তাই জমে ওঠার অপেক্ষায় বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া মহারণ।









Discussion about this post