জিম্বাবুয়ে সফর থেকে মিশ্র অভিজ্ঞতা নিয়েই দেশে ফিরছে বাংলাদেশ দল। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতলেও একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার এবং ওয়ানডে সিরিজে পরাজয় হতাশা বাড়িয়েছে। তবে এই সফরের অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন দলের সহকারী কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল।
আশরাফুলের বিশ্বাস, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ জিম্বাবুয়েতে হওয়ায় এই সফরের অভিজ্ঞতা তখন কাজে লাগবে। একই সঙ্গে সামনের অস্ট্রেলিয়া সফরেও এখানকার শিক্ষা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তিনি বলেন, ‘২০২৭ বিশ্বকাপে সেভাবে প্রস্তুতি নিতে পারব। অস্ট্রেলিয়া সফরেও কাজে দিবে। গত ৭ মাস ধরে হোম কন্ডিশনে ভালো করছিলাম। সেখানে কন্ডিশন ভিন্ন, একটু সময় লেগে গিয়েছে।’
আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরকে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখলেও পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।
আশরাফুল বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সফর কঠিন হবে। তবে আমরা ১০-১২ দিন আগে যাচ্ছি। তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ আছে আমাদের। আশা করব সবাই সুস্থ থাকলে অবশ্যই টেস্টে ভালো করার চেষ্টা করব।’
জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারার পর ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন নন বাংলাদেশের সহকারী কোচ। তার মতে, দল দীর্ঘমেয়াদি হিসাবের বদলে সিরিজভিত্তিক পরিকল্পনাতেই এগোতে চায়।
তিনি বলেন, ‘ঐ বিষয় নিয়ে আমরা চিন্তিত না একদমই। সিরিজ বাই সিরিজ যাওয়ার চেষ্টা করছি। এই সিরিজের আগে টানা ৫ সিরিজ জিতেছিল। সামনে যে ওয়ানডে সিরিজ আছে, যদি ভারত আসে ওদের সাথে, এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সে সময় চেষ্টা করব নিজেদের সেরাটা খেলার।’
জিম্বাবুয়ে সফরে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর ওপরও জোর দিয়েছেন আশরাফুল। তার মতে, ভিন্ন কন্ডিশনে এক-দুটি হার স্বাভাবিক এবং তা নিয়ে দলের মনোবল হারানোর কোনো কারণ নেই। বরং তরুণ ক্রিকেটারদের মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ভবিষ্যতের জন্য বড় প্রাপ্তি।
তিনি বলেন, ‘এক-দুটো ম্যাচ হারতেই পারেন, ভিন্ন কন্ডিশন। গত ৭ মাস ধরে যে এত ভালো খেলছে, সে জায়গায় এক-দুই ম্যাচের হারে মোরালি ডাউন হওয়ার কিছু নেই আমি মনে করি। একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। তানজিদ তামিম, হৃদয়, রিশাদদের এটা প্রথম জিম্বাবুয়ে সফর। সে জায়গায় যে মানিয়ে নিয়েছে, তামিম অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। প্রায় চারটা ফিফটি। ব্যাটিং দেখে বুঝা গেছে কন্ডিশন ভালো মানিয়ে নিয়েছে। ইয়াসির কামব্যাক সিরিজে চমৎকার খেলেছে। এক-দুটো ম্যাচ কেউই চায় না হারতে। তবে হারের পরও ইতিবাচক দিকগুলো বের করে আনতে হবে।’



