দক্ষিণ আফ্রিকার এক শহরে বাংলাদেশ ‘এ’ দল ইনিংস ও ৪১৩ রানে হারল, পরদিন পাশের শহরে একই পরিণতি হলো বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের দলগুলোর ব্যর্থতার চিত্রটা যেন এক ম্যাচ থেকে আরেক ম্যাচে কপি-পেস্ট হচ্ছে।
বেনোনির উইলমোর পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিংয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচে ইনিংস ও ১৬ রানে হেরেছে ইফতেখার হোসেন ইফতির দল। ম্যাচের চতুর্থ দিনেও হার এড়ানোর একটা চেষ্টা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭৪ ওভারে ২১০ রানে থেমে যায় তাদের দ্বিতীয় ইনিংস।
দিন শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য সামান্য আশার ছবি নিয়ে। আগের দিন ৩ উইকেটে ৯৪ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল তারা। ইনিংস হার এড়াতে প্রয়োজন ছিল আরও ১৫২ রান। ক্রিজে ছিলেন অধিনায়ক ইফতি ও চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান। প্রথম ইনিংসে ৭০ রান করা ইফতি দ্বিতীয় ইনিংসেও লড়াই চালিয়ে ৫৯ রানে পৌঁছান। দুই ইনিংসে অধিনায়কের ব্যাট থেকে এসেছে দুটি ফিফটি। কিন্তু দলের বাকি ব্যাটারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত অর্থহীন হয়ে যায়।
ইফতি ফেরার পর বাংলাদেশকে কিছুটা সময় দেওয়ার চেষ্টা করেন উইকেটকিপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন তিনি। কিন্তু এক প্রান্ত থেকে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় ম্যাচের গতিপথ বদলানোর সুযোগ আর তৈরি হয়নি। আমিনুল ইসলাম বিপ্লব করেন ১৩ রান, এরপর মইন খান, রোহান ও মেহেদী হাসানও দ্রুত ফিরে যান। শেষ ব্যাটার হিসেবে আব্দুল্লাহ আউট হলে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে ২১০ রানে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়ান দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার শেল্ক এঙ্গেলব্রেখট। একাই পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিরোধের শেষটুকুও গুঁড়িয়ে দেন তিনি।
অথচ ম্যাচের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিংয়ের ব্যাটিংয়ের সামনে বাংলাদেশও বেশ কিছুটা সময় বল করেছে। জেপি কিংয়ের দুর্দান্ত ১৪৯ রানের ইনিংস এবং মাইকেল ভ্যান ভারেনের অর্ধশতকের ওপর ভর করে ৮ উইকেটে ৪৯৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকেরা। বাংলাদেশের হয়ে আবু হাসিম নেন তিন উইকেট।
জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭১ রানেই গুটিয়ে যায়। ইফতি ও মাহফিজুল ইসলাম রবিনের ফিফটি দলকে কিছুটা ভরসা দিলেও দুই দলের ব্যাটিংয়ের গভীরতার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২২৬ রানের বড় ঘাটতি নিয়ে ফলো-অনে যেতে হয় বাংলাদেশকে। সেখান থেকেই মূলত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
বেনোনির এই হার আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে আগের দুই দিনের ফলের কারণে। রোববার ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ও ৫১ রানে। এরপর প্রিটোরিয়ায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’র কাছে হারল ইনিংস ও ৪১৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। এবার ৫২ কিলোমিটার দূরের বেনোনিতে একই ব্যবধানে না হলেও ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা এড়াতে পারল না ইমার্জিং দলও।
সবচেয়ে দুশ্চিন্তার জায়গা হয়ে উঠেছে ব্যাটিং। একদিকে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের নাইম শেখ, আফিফ হোসেন, শাহাদাত হোসেন দিপু, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও জাকির হাসানরা বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। অন্যদিকে ইমার্জিং দলের ব্যাটাররাও দক্ষিণ আফ্রিকার একটি ইনিংসের কাছাকাছিও যেতে পারেননি দুই ইনিংস মিলিয়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় তাই বাংলাদেশের দলগুলোর জন্য সময়টা এখন শুধু হারার নয়, বরং ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ খোঁজারও। প্রিটোরিয়া ও বেনোনির ৫২ কিলোমিটার যেন দুই ভেন্যুর দূরত্ব নয়, বরং একই সমস্যার প্রতিচ্ছবি। একটি দল হারল ৪১৩ রানে, আরেকটি হারল ইনিংস ব্যবধানে। বদলেছে শুধু মাঠ, বদলায়নি গল্প।



