দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা যেন এক ম্যাচেই পুরো চিত্রটা সামনে এনে দিল। প্রিটোরিয়ায় চারদিনের প্রথম আনঅফিশিয়াল টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়েও বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ২৩৪, যেখানে একাই ২৫৬ রান করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের অধিনায়ক মারকুইস অ্যাকারম্যান।
ম্যাচের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের বিপর্যয়ের শুরু। মাত্র ১২২ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয় স্বাগতিকদের হাতে। এরপর বোলাররা দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের ওপর কোনো চাপ তৈরি করতে না পারায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। প্রথম দিন শেষে ২ উইকেটে ১৭০ রান করা দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দ্বিতীয় দিনেই রানের পাহাড় গড়ে।
অধিনায়ক মারকুইস অ্যাকারম্যান ব্যাট হাতে ছিলেন একেবারেই অপ্রতিরোধ্য। ২৪টি চার ও ৭টি ছক্কার সাহায্যে ২৩৭ বলে ২৫৬ রান করেন তিনি। তার সঙ্গে সিনেথেম্বা কোশিলে গড়েন আরেকটি বিশাল ইনিংস। ১৫টি চার ও ৫টি ছক্কায় ২৬৩ বলে অপরাজিত ২০০ রান করেন কোশিলে। তাদের ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ৬ উইকেটে ৬৪৭ রান তুলে তৃতীয় দিন ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ১২২ রানের বিপরীতে স্বাগতিকদের লিড দাঁড়ায় ৫২৫ রান। এত বড় ঘাটতি পূরণ করতে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটারদের কাছ থেকে অন্তত লড়াই আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও একই চিত্র। মাত্র ১১২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ইনিংস।
সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয়, দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা যে উইকেটে অনায়াসে রান তুলেছেন এবং দুজন দ্বিশতক করেছেন, সেই উইকেটেই বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারই পঞ্চাশের কাছাকাছি যেতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ রান মোহাম্মদ নাঈমের ৩০। এনামুল হক অপরাজিত থাকেন ১৯ রানে। অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন করেন ১৮ এবং নাইম হাসান করেন ১৩ রান।
জাতীয় দলে খেলা মাহমুদুল হাসান জয়, শাহাদাত হোসেন দিপু, জাকির হাসান ও আফিফ হোসেনও নিজেদের সামর্থ্যের ছাপ রাখতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে জয় করেন মাত্র ১ রান, দিপু ফেরেন শূন্য রানে। জাকিরের ব্যাট থেকে আসে ৮ এবং আফিফ করেন ৬ রান। ফলে ৫২৫ রানের বিশাল ঘাটতির সামনে বাংলাদেশ ‘এ’-র ইনিংস স্থায়ী হয় মাত্র ১১২ রানে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে ইউসুফ, মোরেকি ও পটগেইটার তিনটি করে উইকেট নেন। বাংলাদেশের পক্ষে আনামুল হক দুই ইনিংসে ব্যাট-বলে কিছুটা অবদান রাখেন। প্রথম ইনিংসে তিনি নেন ৩ উইকেট, আর দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত থাকেন ১৯ রানে।
তৃতীয় দিনেই ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ায় চারদিনের ম্যাচের শেষ দিন মাঠে নামার প্রয়োজন হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’-র বিপক্ষে এমন বড় ব্যবধানের হার বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটিং সামর্থ্য ও প্রস্তুতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে জাতীয় দলের আশপাশে থাকা একাধিক ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েও নিজেদের প্রমাণ করতে না পারায় হতাশার মাত্রা আরও বেড়েছে।
তবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দ্রুতই আসছে। আগামী ৩০ আগস্ট থেকে একই সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ আনঅফিশিয়াল চারদিনের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ‘এ’। প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে সেখানে অন্তত ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধ গড়াই হবে সফরকারীদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।



