ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার সুযোগটি হাতছাড়া হলো শরিফুল ইসলামের। কেন্টের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে মাঠে নামার কথা থাকলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দেয়নি। সিদ্ধান্তটির পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সামনে থাকা ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচি এবং হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে শরিফুলের সাম্প্রতিক প্রত্যাবর্তন।
কেন্টের ড্রেসিংরুমে এরই মধ্যে বাংলাদেশের আরেক পেসার হাসান মাহমুদ আছেন। সেখানে শরিফুলেরও যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তিন সংস্করণেই নিয়মিত খেলা এই পেসারকে আরও চারটি কাউন্টি ম্যাচ খেলতে পাঠালে তার ওপর অতিরিক্ত শারীরিক চাপ তৈরি হতে পারে-এমন আশঙ্কা করেছে বিসিবি।
ক্রিকেট অপারেশন্সের দায়িত্বে থাকা শাহরিয়ার নাফীস মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শরিফুলকে তার কাজের চাপ এবং সামনে থাকা আন্তর্জাতিক সূচি বিবেচনা করে এনওসি দেওয়া হয়নি। কারণ, আগামী তিন মাসে আমাদের পাঁচটি টেস্ট, সাতটি টি-টোয়েন্টি এবং ছয়টি ওয়ানডে রয়েছে।’
বিসিবির হিসাবটা তাই শুধু কাউন্টিতে কয়েকটি ম্যাচ খেলার মধ্যে আটকে নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততা যখন সামনে, তখন শরিফুলকে আরও ম্যাচে ঠেলে দেওয়ার চেয়ে দীর্ঘ মৌসুমের জন্য তাকে সতেজ রাখাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তার ওপর, হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে ফেরার পর শরীরকে আবারও বড় ম্যাচের চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ।
নাফীসের ব্যাখ্যায়, ‘শরিফুল এমন একজন খেলোয়াড়, যে সব সংস্করণেই খেলে। এর সঙ্গে সে মাত্রই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে ফিরছে। তাই তাকে চারটি কাউন্টি ম্যাচ খেলার জন্য এনওসি দিলে তার শরীরে যে বাড়তি চাপ পড়বে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। এতে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য সে পুরোপুরি ফিট নাও থাকতে পারে।’
শরিফুলের জন্য এখন ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং সামনে থাকা আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার আগে ফিটনেস ও প্রস্তুতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিবি। টিম ম্যানেজমেন্ট ও মেডিকেল বিভাগের মতামতও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার বদলে অনুশীলনের মাধ্যমে শরিফুলকে প্রস্তুত রাখার পথটিই আপাতত নিরাপদ মনে করছে তারা।
তবে একই কেন্টের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েও শরিফুলের ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্ত, খালেদ আহমেদের ক্ষেত্রে সেটি নয়। কেন্টের অনুরোধে খালেদকে এনওসি দিয়েছে বিসিবি।



