জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসান। সর্বশেষ প্রকাশিত আইসিসির সাপ্তাহিক র্যাঙ্কিংয়ে সাত ধাপ এগিয়ে তিনি উঠে এসেছেন ২০তম স্থানে। একই সঙ্গে ৬৪৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে গড়েছেন নিজের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রেটিংয়ের নতুন রেকর্ড। এর আগে তার সর্বোচ্চ রেটিং ছিল ৬৩৬। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারীও তানজিদ।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও হার দিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে পরের দুই ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় সফরকারীরা।
এই প্রত্যাবর্তনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল তানজিদের। দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি খেলেন ৫৮ রানের ইনিংস, আর সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে ৬৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ওই ম্যাচে ম্যাচসেরার পাশাপাশি পুরো সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য জেতেন সিরিজসেরার পুরস্কারও।
বাংলাদেশের আরেক ওপেনার সাইফ হাসানও র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে তিনি নয় ধাপ এগিয়ে ২৭তম স্থানে উঠেছেন। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান বেনেট প্রথম ও তৃতীয় ম্যাচে চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলে দুই ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ারসেরা নবম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন।
বোলারদের র্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের জন্য এসেছে সুখবর। অফস্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মেহেদি হাসান তিন ম্যাচে চার উইকেট নিয়ে চার ধাপ এগিয়ে ১৯তম স্থানে উঠেছেন। লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন দ্বিতীয় ম্যাচে চার উইকেটসহ সিরিজে মোট পাঁচ উইকেট নিয়ে আট ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ২৫তম স্থানে আছেন।
সিরিজে উইকেটশূন্য থাকলেও অন্যদের অবনতির কারণে নয় ধাপ এগিয়ে ৬৯তম স্থানে উঠে এসেছেন পেসার তাসকিন আহমেদ।
জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানির। সিরিজে আট উইকেট নেওয়া এনগারাভা ৩৭ ধাপ এগিয়ে ৩২তম স্থানে উঠেছেন। আর প্রথম ম্যাচে চার উইকেট নেওয়া মুজারাবানি ২২ ধাপ এগিয়ে এখন ৩৬তম স্থানে।
টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ব্যাটসম্যানদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের ইশান কিষান। বোলারদের মধ্যে এক নম্বরে আছেন আফগানিস্তানের রাশিদ খান, আর অলরাউন্ডারদের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা।
এদিকে ইংল্যান্ড-ভারত ও নিউজিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে সিরিজের পারফরম্যান্সও প্রতিফলিত হয়েছে সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে। ইংল্যান্ডের জো রুট তিন ম্যাচে অপরাজিত ৭৬, ৯৯ ও ৭৪ রান করে চার ধাপ এগিয়ে অষ্টম স্থানে উঠে ২০২০ সালের পর আবারও শীর্ষ দশে ফিরেছেন। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ১৪১ রানের ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডের বেন ডাকেট ১১ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ১৯তম স্থানে উঠেছেন।
ভারতের রোহিত শর্মা শেষ ওয়ানডেতে ১৩৮ রানের ইনিংস খেলে তৃতীয় স্থানে থাকা বিরাট কোহলির সঙ্গে রেটিংয়ের ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে এনেছেন। রোহিতের রেটিং এখন ৭৫৮, যেখানে কোহলির ৭৬৭। শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেলের ৮০২ রেটিংয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন ভারতের শুভমান গিল, যার সংগ্রহ ৮০১ পয়েন্ট।
ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে নিউজিল্যান্ডের মাইকেল ব্রেসওয়েল ছয় ধাপ এবং মার্ক চ্যাপম্যান ১০ ধাপ এগিয়েছেন। বোলারদের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গুডাকেশ মোটি সাত ধাপ উন্নতি করে যৌথভাবে নবম এবং আলজারি জোসেফ ১০ ধাপ এগিয়ে ২৬তম স্থানে উঠেছেন।
নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার তিন ধাপ এগিয়ে চতুর্থ এবং ইংল্যান্ডের জফ্রা আর্চার এক ধাপ উন্নতি করে তৃতীয় স্থানে আছেন। বোলারদের তালিকার শীর্ষ দুই অবস্থানে আগের মতোই রয়েছেন আফগানিস্তানের রাশিদ খান ও পাকিস্তানের আবরার আহমেদ।
ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের তালিকায়ও শীর্ষ দুই স্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এক নম্বরে রয়েছেন আফগানিস্তানের আজমাতউল্লাহ ওমারজাই এবং দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজ। ছয় ধাপ উন্নতি করে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন নিউজিল্যান্ডের মাইকেল ব্রেসওয়েল।









Discussion about this post