বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসর শুরুর প্রাক্কালে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ডাগআউটে ঘটেছে বড় পরিবর্তন। দল মাঠে নামার আগেই বদলে গেছে কোচিং কাঠামো, পাল্টে গেছে পরিকল্পনার দিকনির্দেশনাও। প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে এসে এমন রদবদল বিপিএলের ইতিহাসে বিরল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের মূল কোচিং পরিকল্পনা শুরু থেকেই স্থির ছিল না। প্রথমে প্রধান কোচ হিসেবে দেশীয় কোচ মমিনুল হকের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত বদলে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলরাউন্ডার জাস্টিন মাইলস ক্যাম্পকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়। ২০ ডিসেম্বর তার নাম প্রকাশ করা হলেও বাংলাদেশে আসা নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হয়, এই টুর্নামেন্টে ক্যাম্পের আর আসা হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন মালিকানা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকপক্ষ। আর্থিক সংকট দেখিয়ে বিসিবির কাছে দল পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তরের আবেদন করা হয়। বোর্ড দ্রুত সেই দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং কোচিং স্টাফে পরিবর্তন আনে।
নতুন ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম রয়্যালসের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান মিজানুর রহমান বাবুল। টিম ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনকে, যিনি এই দায়িত্ব নিতে গিয়ে বিপিএলের টেকনিক্যাল কমিটির পদ ছেড়ে দেন। টিম ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন নাফিস ইকবাল। আগে থেকেই ব্যাটিং কোচ ও মেন্টর হিসেবে থাকা তুষার ইমরান তার দায়িত্বে বহাল আছেন।
শেষ মুহূর্তে কোচিং স্টাফে এমন রদবদল নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে দলের জন্য। হাতে সময় কম, অথচ সামনে উদ্বোধনী ম্যাচের চাপ। আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে চট্টগ্রাম রয়্যালস। প্রস্তুতির চেয়ে এখন সমন্বয়ই বড় কাজ কোচিং স্টাফের জন্য।
দল গঠনের দিক থেকেও চট্টগ্রাম রয়্যালস আলোচনায় এসেছে এবারের বিপিএলে। নিলামে সর্বোচ্চ এক কোটি ১০ লাখ টাকায় নাঈম শেখকে দলে টেনেছে তারা। পাশাপাশি শেখ মেহেদী, তানভির ইসলাম, মির্জা তাহির বাগ, ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও কামরান গুলামের সঙ্গে নিলামের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হয়। নিলাম থেকে যুক্ত হয়েছেন শরিফুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান জয়, আবু হায়দার রনিসহ একাধিক পরিচিত মুখ।










Discussion about this post