ইউল্যাব মাঠে যখন হাবিবুর রহমান সোহানের ব্যাট হাতে নামেন, তখন ম্যাচটি ছিল আর দশটা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচের মতোই। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো দৃশ্যপট বদলে যায়। ব্যাট হাতে এমন এক ঝড় তোলেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের তারকা হাবিবুর, যা শুধু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণই নেয়নি, বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসও নতুন করে লিখেছে।
সিটি ক্লাবের বিপক্ষে আজ শুরুটা অবশ্য ছিল অস্বস্তিকর! প্রথম ৯ বলে মাত্র ৬ রান। বোলাররা তখনো ভাবছিলেন তাকে চাপে রাখা সম্ভব। কিন্তু ক্রিকেটে কখনও কখনও একটি ওভারই ম্যাচের চরিত্র বদলে দেয়। নিহাদ উজ জামানের এক ওভারেই যেন বিস্ফোরিত হন হাবিবুর। প্রথমে চার, পরের বলেই ছক্কা। এরপর একই বোলারের আরেক ওভারে ২২ রান তুলে ম্যাচকে নিয়ে যান সম্পূর্ণ অন্য মাত্রায়।
এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। মাত্র ২৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ফিফটির পর তার ব্যাটিং আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। যেন প্রতিটি বলকেই গ্যালারির বাইরে পাঠানোর সংকল্প নিয়ে খেলছিলেন। পরের ৫০ রান আসে মাত্র ১৯ বলে। ৪৫ বলে শতক পূর্ণ করার মুহূর্তে ইউল্যাব মাঠে উপস্থিত সবাই বুঝে যায়, তারা একটি ঐতিহাসিক ইনিংসের সাক্ষী হয়ে থাকল।
এর আগে বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল ৪৯ বলে। সেই রেকর্ডের মালিকও ছিলেন হাবিবুর রহমান, যৌথভাবে মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে। এবার তিনি নিজেকেই ছাড়িয়ে গেলেন। রেকর্ড এখন শুধুই তাঁর।
মাত্র কয়েক দিন আগেই মোহামেডানের বিপক্ষে ১৫ বলে ফিফটি করে আলোড়ন তুলেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে জাতীয় দলের দুই পেসার নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদের বিপক্ষে যেভাবে আক্রমণ করেছিলেন, তা অনেককে বিস্মিত করেছিল। কিন্তু এবার তিনি প্রমাণ করলেন, সেটি কোনো আকস্মিক ইনিংস ছিল না; বরং এটি তার ব্যাটিং দর্শনেরই অংশ।
৫৮ বলে ১৩০ রানের ইনিংসে হাবিবুর মারেন ১৩টি ছক্কা ও ৮টি চার। তার প্রতিটি শটেই ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। লং অন, মিডউইকেট কিংবা কভারের ওপর দিয়ে-মাঠের প্রায় সব দিকেই ছিল তার আধিপত্য। বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এক ইনিংসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। এই তালিকায় এখনো শীর্ষে আছেন সৌম্য সরকার।
বাংলাদেশের ক্রিকেট দীর্ঘদিন ধরে এমন একজন ব্যাটসম্যান খুঁজেছে, যিনি শুরু থেকেই ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন। টি-টোয়েন্টির যুগে যেখানে পাওয়ার হিটিং সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, সেখানে হাবিবুর রহমান নিজেকে আলাদা করে তুলছেন সাহসী মানসিকতা আর স্বাভাবিক আগ্রাসনে।
তার অর্জনের তালিকাও এখন বেশ সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের ক্রিকেটে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রেকর্ডও তার দখলে। গত বছর রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে হংকং চায়নার বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে মাত্র ৩৫ বলে শতক করেছিলেন তিনি। সব সংস্করণ মিলিয়ে সেটিই এখন বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরি। তার ব্যাটেই লিজেন্ডসরা শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ৪৪.৪ ওভারে তুলেছে ৩২২ রান।









Discussion about this post