মধ্যবিত্ত জীবনের অনিশ্চয়তা আর সংগ্রামের ভেতর থেকেই উঠে আসা এক তরুণ ক্রিকেটারের গল্প যেন নতুন করে আলোচনায়। রিপন মন্ডল নিজের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ে এসে স্মরণ করলেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণার উৎস-তার স্ত্রী নুসরাত জাহান সুমি-কে। বিবাহবার্ষিকীর দিনে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় তিনি তুলে ধরেছেন জীবনের বদলে যাওয়ার গল্প।
মাত্র ২৩ বছর বয়সেই জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া রিপনের পথচলা সহজ ছিল না। মধ্যবিত্ত পরিবারের সীমাবদ্ধতা, অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তার মধ্যেই কেটেছে তার শুরুর সময়। তবে জীবনের এক পর্যায়ে নুসরাত জাহান সুমির আগমন তার চিন্তাধারা ও জীবনযাপনকে বদলে দেয়। এলোমেলো জীবন হয়ে ওঠে গোছানো, লক্ষ্যহীনতা জায়গা ছাড়ে স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলার দৃঢ়তায়। আর সেই পরিবর্তনের ফলই এখন দৃশ্যমান তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে।
বিবাহবার্ষিকীর দিন জাতীয় দলের সঙ্গে থাকায় পরিবারের কাছে থাকতে না পারলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলেননি রিপন। নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ক্রিকেটার হবো সেই স্বপ্ন দেখার শুরু হয়নি তখনও। জীবনে কিছু একটা করতে হবে এই ভাবনাটাই ছিল না ওভাবে। অথচ মধ্যবিত্ত পরিবার আমাদের, কতশত সমস্যা-অনিশ্চয়তা! হঠাৎ একদিন আমার জীবনে তিনি এলেন, সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হয়ে! আলহামদুলিল্লাহ এরপর থেকে একটু একটু করে বদলাতে শুরু হলো ভাবনা, বুঝতে শুরু করলাম বাস্তবতা, ছুটতে শুরু করলাম স্বপ্নের পেছনে।’
নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার পেছনেও স্ত্রীর অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি। রিপন লিখেছেন, ‘আমার পক্ষেও যে ভালো কিছু করা সম্ভব, এই বিশ্বাসটা নিজের ছিল যতটা তারচেয়ে অনেক বেশি ছিল তার। যখন আমি কিছু ছিলাম না, যখন আমার কিছুই ছিল না, সেই সময়টায় তিনি আমার জীবনে এসেছিলেন। আজকে যিনি আমার সহধর্মিণী, আমার সন্তানের মা।’
স্ত্রীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ত্যাগের কথাও আবেগভরে তুলে ধরেছেন এই তরুণ ক্রিকেটার। তিনি লিখেছেন, ‘আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকী। এমন বিশেষ একটা দিনে আমি পরিবার থেকে দূরে, পেশাদার ক্রিকেটারদের জীবন যেমন হয় আর কি! আমায় নিয়ে তার কোনো অভিযোগ বা অভিমান আছে কি না কখনোই বলেনি। নিঃস্বার্থভাবে বছরের পর বছর ধরে ভালোবেসে গেছে, প্রত্যেকটা কঠিন সময়ে পাশে থেকেছে, ভরসা দিয়েছে, লড়তে শিখিয়েছে। এখনও তাই। এতটুকুও বাড়িয়ে বলছি না, আমি সত্যিই অনেক সৌভাগ্যবান যে আল্লাহ আমাকে তার যোগ্য মনে করেছেন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’










Discussion about this post