ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার টি-টোয়েন্টি মিশনে নামছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তবে বদলে গেছে নেতৃত্ব-এই ফরম্যাটে নতুন করে দায়িত্ব নিয়েছেন লিটন কুমার দাস। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তার অধিনায়কত্বের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছে ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। ফলে সামনে দীর্ঘ পথচলার শুরুটা হচ্ছে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়েই।
আগামীকাল শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাস পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তার দৃষ্টি এখনই ভবিষ্যতের বিশ্বমঞ্চে। তিনি বলেন, ‘আমাদের আসল লক্ষ্য বিশ্বকাপ, আমরা জানি এশিয়াতে (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ) না। সেভাবেই চিন্তাভাবনা করব। যেহেতু আমাদের বন্ডিং হয়েছিল খুবই ভালো। শেষ বিশ্বকাপেও (২০২৬) ভালো প্রস্তুতি ছিল। চেষ্টা করব দলটাকে যেন সেখান থেকেই ভালো করে ধরে রাখা যায়।’
লিটনের নেতৃত্বে বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা থাকলেও নানা জটিলতায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। আইসিসির সূচি ও পরিস্থিতিগত টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দল অংশ নিতে পারেনি, যা ছিল বড় এক আক্ষেপ। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় আরও সতর্ক দলটি।
নিউজিল্যান্ড সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে দুই গুরুত্বপূর্ণ বোলার মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানাকে। তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে লিটন বলেন, ‘বোলারদের জন্য খুবই সহজ ব্যাপারটা, রোটেট করে খেলানো। আপনারাও জানেন যে দুজন (রানা এবং মোস্তাফিজ) নেই। তারা বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদ। আমি চাই না তারা টানা ক্রিকেট খেলে চোটে পড়ে শেষ হয়ে যাক। সামনে আমাদের ওয়ানডেতে অনেক খেলা আছে, টেস্টেও আছে। এদিক দিয়ে চিন্তা করেই পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেহেতু বিশ্বকাপ অনেক দেরি, প্লেয়ারদের ম্যাচ খেলানোর একটা ভালো সুযোগ আছে।’
আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটিং গভীরতার গুরুত্ব বেড়েছে অনেক। সেই জায়গায় এখনও পিছিয়ে বাংলাদেশ-এমন বাস্তবতা স্বীকার করেই দলকে নতুনভাবে গড়ার পরিকল্পনা করছেন অধিনায়ক। নিউজিল্যান্ড সিরিজে দলে থাকা অলরাউন্ডার ও নিচের সারির ব্যাটারদের ওপর আস্থা রাখছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিটন বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে ভালো। আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের এই দলে প্রকৃত ছয়টা ব্যাটসম্যান সবসময় খেলে। সাথে আপনারা জানেন রিশাদ এবং শেখ মেহেদী দুজনেই ব্যাটিং করতে পারে। এবং পেসারদের বোলারদের ভেতরে সাকিব আছে, সাইফউদ্দিন আছে, সাকলাইনও এখন নতুন যোগ দিয়েছে। তো সামগ্রিকভাবে খুবই একটা ভারসাম্যপূর্ণ দল আমার কাছে মনে হয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তবে আপনি যদি দেখেন সামগ্রিকভাবে এই দলে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে, যে পাঁচজনকে আমরা টেলএন্ডার হিসেবে ধরছি, পাঁচ পেস বোলারের মধ্যে তিনজনই খুব ভালো ব্যাটিং করতে পারে। শুধু যদি শরিফুল এবং রিপন মন্ডলকে ধরি, তাহলে হয়তো তারা খুব ভালো ব্যাটসম্যান না, কিন্তু টুকটাক পাঁচ-ছয় রান করে দিতে পারবে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা যে দলটা গড়ার চেষ্টা করছি, তারা যদি নিজেদের মতো করে পারফরম্যান্স করতে পারে, তাহলে এই সমস্যা আর থাকবে না।’
বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তি দলগুলোর মতো করেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চান লিটন। নিচের দিকের ব্যাটাররা রান যোগ করতে পারলে ওপরের সারির ব্যাটাররা আরও স্বাধীনভাবে খেলতে পারবেন বলে বিশ্বাস তার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনি দেখবেন যে বড় বড় টিমগুলোতে সবগুলোরই ডেপথ (গভীরতা) অনেক বড়। নয় নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং পারে। তো ওই ডেপথটা যদি আমরা তৈরি করতে পারি তাহলে মনে হয় আমাদের ব্যাটসম্যানরা উপর থেকে আরও ফ্রি’লি গেম খেলতে পারবে।’









Discussion about this post