সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাট হাতে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করেছে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও এরপর লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে তুলে নেয় টাইগাররা। আজ তৃতয়ি দিনে চা বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩০৭ রান, আর লিড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৩ রানে। হাতে এখনও আছে চার উইকেট।
দ্বিতীয় দিন শেষে ১৫৬ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। হাতে ছিল সাত উইকেট। তবে দিনের পঞ্চম ওভারেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন অধিনায়ক শান্ত। খুররম শাহজাদের বলে ব্যক্তিগত ১৫ রানে আউট হওয়ার আগে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। চতুর্থ উইকেটে শান্ত ও মুশফিকের জুটিতে যোগ হয় মাত্র ৫ রান।
এরপরই দৃশ্যপট বদলে দেন লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম। সাবলীল ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানি বোলারদের হতাশ করে পঞ্চম উইকেটে গড়ে তোলেন ১২৩ রানের জুটি। প্রথম সেশনে ৮৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে লাঞ্চে যান তারা। সেই সময় বাংলাদেশের লিড ছিল ২৪৯ রান। পুরো প্রথম সেশনে ২৬.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৯৩ রান যোগ করে স্বাগতিকরা।
প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা লিটন দ্বিতীয় ইনিংসেও ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। লাঞ্চের পর নিজের প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২০তম টেস্ট ফিফটি। শেষ পর্যন্ত ৯২ বলে ৬৯ রান করে হাসান আলীর বলে আউট হন তিনি। তার ইনিংসে ছিল দারুণ কিছু স্ট্রোক, বিশেষ করে কভার অঞ্চলে খেলা কয়েকটি শট ছিল চোখ জুড়ানো। দুই ইনিংস মিলিয়ে এই টেস্টে লিটনের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯৫ রান, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ।
লিটনের বিদায়ের পরও থামেনি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা। মেহেদী হাসান মিরাজ ১৯ রান করে ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস বড় করতে থাকেন মুশফিকুর রহিম। চা বিরতিতে তিনি অপরাজিত ছিলেন ১৫৫ বলে ৯০ রানে। তার সঙ্গে ছিলেন তাইজুল ইসলাম, যিনি ২০ বলে ৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন।
এই ইনিংসে ফিফটি পূর্ণ করার পাশাপাশি আরও দুটি বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মুশফিক। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ২ হাজার রান পূর্ণ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের কীর্তিও গড়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ৭৩তম ওভারের তৃতীয় বলে ডাবলস নিয়ে এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। তিন সংস্করণ মিলিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও মুশফিক।
এর আগে টস হেরে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাসের ১৫৯ বলে ১২৬ রানের ইনিংসে ২৭৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে খুররম শাহজাদ চারটি ও মোহাম্মদ আব্বাস তিনটি উইকেট নেন। জবাবে বাবর আজমের ৬৮ ও সাজিদ খানের ৩৮ রানে পাকিস্তান ২৩২ রান তুললে ৪৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের হয়ে নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম তিনটি করে উইকেট নেন, তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ শিকার করেন দুটি করে উইকেট।










Discussion about this post