হোয়াইটওয়াশের স্বপ্নটা খুব কাছেই ছিল বাংলাদেশের। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় নিয়ন্ত্রণে রেখে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সুবাসও পাচ্ছিল স্বাগতিকরা। তবে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ১ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। যদিও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।
রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে ৪৯.৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৭৭ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সফরকারীরা। শেষ ওভারে অ্যাডাম জাম্পার ব্যাট থেকে আসে জয়ের চার।
বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। শুরুতেই সৌম্য সরকারকে হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৬১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন লিটন ও হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে ৯২ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন তারা। ইনিংসের মাঝপথে চোটে মাঠ ছাড়লেও পরে ফিরে এসে মিরপুরে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেন লিটন। ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। অন্যদিকে হৃদয় খেলেন ৮৩ রানের দারুণ এক ইনিংস।
শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলের রান বাড়িয়ে নেন। তার অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংসে ভর করে ২৭৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম চার ওভারেই ৩৮ রান তুলে সফরকারীরা বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তবে আক্রমণে এসে দ্রুতই ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন শরিফুল ইসলাম। নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিস ও ম্যাট রেনশোকে ফিরিয়ে দেন বাঁহাতি এই পেসার। পরে তাসকিন আহমেদ অ্যালেক্স ক্যারিকে সাজঘরে পাঠালে ম্যাচে ফেরার আশা জাগে বাংলাদেশের।
তবে সেই আশা ধাক্কা খায় কুপার কনোলির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে। মার্নাস লাবুশেনকে সঙ্গে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। ৫১ বলে ফিফটি তুলে নেওয়ার পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন এই তরুণ ওপেনার। লাবুশেন আউট হলেও থামেননি কনোলি। ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে গড়ে তোলেন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি। একপর্যায়ে মাত্র ৮৭ বলে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।
গ্রিন ২৭ রান করে ফিরলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন অস্ট্রেলিয়ার হাতেই। তরুণ অলিভার পিকও ২৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে দলের জয়ের পথ সহজ করেন।
তবুও শেষ পর্যন্ত লড়াই থেকে ছিটকে যায়নি বাংলাদেশ। এক প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত বোলিং করে অজি শিবিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জাভিয়ার বার্টলেটকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের দেখা পান তিনি। পরে আরও একটি উইকেট নিয়ে নিজের শিকারসংখ্যা দাঁড় করান ৬-এ।
১০ ওভারে ৪৮ রান খরচায় ৬ উইকেট নেওয়া শরিফুলের এটি ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। একই সঙ্গে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে এটি পঞ্চম সেরা বোলিং সাফল্য। তবে তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্সও শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দিতে পারেনি।
শেষ ওভারে এসে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। অ্যাডাম জাম্পার বাউন্ডারিতেই নিশ্চিত হয় সফরকারীদের নাটকীয় জয়। ফলে হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন অপূর্ণ থাকলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৭৪/৪ (সৌম্য ২, তানজিদ ১৯, শান্ত ২৪, লিটন ৫৮*, হৃদয় ৮৩, মোসাদ্দেক ৫৬*, শেখ মেহেদি ৩; বার্টলেট ৮-০-৪৭-২, মেরেডিথ ৭-০-৪১-০, ডোয়ার্শাস ৮-০-৫৫-১, গ্রিন ৬-২-১৮-০, রেনশ ৯-০-৪৪-২, জ্যাম্পা ১০-০-৪৮-০, লাবুশেন ২-০-১০-০)।
অস্ট্রেলিয়া: ৪৯.৩ ওভারে ২৭৭/৯ (কনোলি ১৪৯, ইংলিস ১৯, রেনশ ০, কেয়ারি ৮, লাবুশেন ২৯, গ্রিন ২৭, পিক ২৭, বার্টলেট ০, জ্যাম্পা ৪*, মেরেডিথ ২*; তাসকিন ৭.৩-১-৫৯-১, মুস্তাফিজ ১০-০-৫৬-১, শরিফুল ১০-১-৪৮-৬, শেখ মেহেদি ১০-১-৩৭-১, তানভির ৭-০-৩৮-০, মোসাদ্দেক ৬-০-৩৬-০)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: কুপার কনোলি।
সিরিজসেরা: মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।










Discussion about this post