সিরিজের শেষ ম্যাচে জয়টা খুব কাছ থেকে ছুঁয়েও পাওয়া হলো না বাংলাদেশের। মিরপুরে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১ উইকেটে হেরে গেছে স্বাগতিকরা। তবে এক ম্যাচের হতাশা ছাপিয়ে সিরিজ জয়ের আনন্দ ঠিকই রয়ে গেছে বাংলাদেশ শিবিরে। আর সেই সাফল্যের অন্যতম নায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, যিনি চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরে প্রথম সিরিজেই জিতেছেন সিরিজসেরার পুরস্কার।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। পুরো সিরিজে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন মোসাদ্দেক। তিন ম্যাচে করেছেন ১৫৭ রান। পাশাপাশি বল হাতেও নিয়েছেন ২ উইকেট। অলরাউন্ড নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে সিরিজসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতেই।
মিরপুরে সিরিজের শেষ ম্যাচে আজ টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। দলের হয়ে তিন ব্যাটার তুলে নেন অর্ধশতক। তাওহীদ হৃদয় ৮৮ বলে ৮৩ রান করেন। লিটন দাস খেলেন ৭৮ বলে ৫৮ রানের ইনিংস। আর শেষদিকে ঝড়ো ব্যাটিং করে ৫১ বলে ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক।
তবে বাংলাদেশের এই সংগ্রহ শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি। রান তাড়ায় নেমে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের মূল ভরসা ছিলেন কুপার কনোলি। ১৩৪ বলে ১৪৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন তিনি। যদিও শেষদিকে শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। কনোলি আউট হওয়ার পর নাটকীয়তা আরও বাড়ে। কিন্তু শেষ ওভারে অ্যাডাম জাম্পার বাউন্ডারিতে ৩ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচ হেরে গেলেও সিরিজ জয়ের হাসি ছিল বাংলাদেশের মুখে। আর ব্যক্তিগতভাবে এই সিরিজটি বিশেষ হয়ে থাকবে মোসাদ্দেকের জন্য। দীর্ঘ চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরে এমন পারফরম্যান্সে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত এই অলরাউন্ডার।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মোসাদ্দেক বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ সব কিছুর জন্য। সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম আমি। অনেক দিন পর এখানে ফিরে এসে দলের জন্য পারফর্ম করতে পারলাম। আমার মনে হয় ১৫-২০ রান কম করেছিলাম আমরা। তারাও (অস্ট্রেলিয়া) অনেক ভালো ব্যাট করেছে।’
মোসাদ্দেকের এই বক্তব্যেই যেন ধরা পড়েছে পুরো ম্যাচের চিত্র। ব্যাট হাতে লড়াকু সংগ্রহ গড়েও শেষ পর্যন্ত কিছুটা কম পড়ে গেছে বাংলাদেশ। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের সাফল্যই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তার কাছে। আর সেই সাফল্য হলো শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক এক সিরিজ জয়।









Discussion about this post