অনেক দিন পর আবাহনী ক্লাবের আঙিনা আবারও প্রাণ ফিরে পেল। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন খেলার সাবেক খেলোয়াড়রা জমায়েত হলেন, আড্ডায় মেতে উঠলেন পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণায়। কর্মকর্তা ও সমর্থকদের ব্যস্ত আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। উপলক্ষ ছিল ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ক্লাব পরিদর্শন। “ঘরের ছেলে” হিসেবে তাকে বরণ করতে ছোট্ট আয়োজনেও জড়ো হন অসংখ্য তারকা। নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে এসে তিনি দেশের ক্লাবগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার জোর বার্তা দেন।
মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন আমিনুল। প্রতিদিন একাধিক কর্মসূচি থাকায় সময় ব্যবস্থাপনায় কিছুটা চাপ থাকলেও তার আগ্রহে ভাটা পড়েনি। খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছেন, ক্লাব টিকে থাকলেই টিকে থাকবে ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাধুলা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব কীভাবে ক্লাবগুলোকে বিপথে নিয়ে যায়, সেটিও তার অজানা নয়। তাই দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলো ঘুরে ঘুরে রাজনীতিকে “না” বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
আবাহনীর জন্য এই পরিদর্শন ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর উচ্ছৃঙ্খল জনতার হামলার শিকার হয় ক্লাবটি। ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দীর্ঘ পাঁচ দশকের ঐতিহ্য, হারিয়ে যায় অসংখ্য শিরোপা, যার অনেকগুলোরই আর খোঁজ মেলেনি। ওই সময়ের অস্থিরতায় রাজনৈতিক ট্যাগ লাগার ভয়ে অনেক ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকও প্রিয় ক্লাব থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হন।
এই বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন আমিনুল, তবে এতদিন উদ্যোগ নিতে পারেননি। মন্ত্রী হওয়ার পর অবশেষে তিনি নিজেই এগিয়ে এলেন সেই ক্লাবে, যেখানে তার ক্যারিয়ারের শুরুর একটি মৌসুম কেটেছিল। ক্লাবে এসে দুঃসময়ে দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া কর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন তিনি।
এরপর সংবাদ সম্মেলনে আবাহনীকে পুনরুজ্জীবিত করার আশ্বাস দেন এবং বলেন, ‘আবাহনী ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্লাব যে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে খেলোয়াড়দের ঠিকঠাক পারিশ্রমিক দিতে পারছে না, সেটা ইতিমধ্যে আমাদের নজরে এসেছে। আবাহনী ক্লাব দিয়ে কথা বলা শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের শীর্ষ ক্লাবগুলো উজ্জীবিত করতে, সুন্দরভাবে পরিচালিত করতে আমি যাবো এবং সার্বিক সহযোগিতা করবো। ইতিমধ্যে ফেডারেশনগুলোকে স্বাবলম্বী করার জন্য করপোরেট হাউসগুলোর সঙ্গে বসেছি। প্রয়োজনে ক্লাবগুলোর জন্য আবার বসবো। ক্লাবগুলোর যে নিজস্ব সম্পদ রয়েছে, সেগুলো কাজে লাগিয়ে তারা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে সে বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।’
সরকার পরিবর্তনের পর থমকে থাকা আবাহনীর কয়েক কোটি টাকার ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন তিনি। কাজ এগিয়ে নিতে ক্লাব কর্তৃপক্ষকে উৎসাহ দেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন ক্লাবকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ওপর, ‘আমি একটি কথাই বলব, ভবিষ্যতে কোনো ক্লাবে যাতে আর কোনো রাজনৈতিককরণ করা না হয়। ক্লাবকে যাতে দলীয়ভাবে কেউ ব্যবহার করতে না পারে, সে ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তবেই খেলাবান্ধব একটা ক্লাব সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব।’



