চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম-এ ম্যাচটা যেন দুই ভাগে বিভক্ত-একটা ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা, আর অন্যটা নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে গড়া। সেই পরিবর্তনের গল্পটাই শেষ পর্যন্ত সিরিজ এনে দিল বাংলাদেশের হাতে। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান তুলে বাংলাদেশ। জবাবে ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে অলআউট। মুস্তাফিজ নিয়েছেন ৫ উইকেট। আর দল পায় ৫৫ রানে জয়ের সঙ্গে সিরিজ (২-১)।
শুরুটা ছিল যেন দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম বলেই উইকেট হারানো, এরপর দ্রুত আরও দুটি-৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। কিন্তু সেখান থেকেই পাল্টা লড়াইয়ের সূচনা। নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস একসঙ্গে শুধু রানই তোলেননি, ম্যাচের গতি বদলে দিয়েছেন। তাদের ব্যাটিংয়ে ছিল সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেলার বুদ্ধিমত্তা-প্রথমে ধৈর্য, পরে আক্রমণ।
চতুর্থ উইকেটে ১৬০ রানের জুটি গড়ে তারা প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দেন। লিটনের ৭৬ রান ছিল ইনিংসকে স্থির করার কাজ, আর শান্তর ব্যাটে ফুটে ওঠে পরিণত নেতৃত্ব। ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করে তিনি পৌঁছে যান শতকে-১১৪ বলে ১০৫ রান, যা ছিল পরিস্থিতির বিচারে এক অনন্য ইনিংস। এই দুজনের হাত ধরেই বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ২৬৫ রানের সংগ্রহে, যা শুরুটা বিবেচনায় অনেক বেশি মূল্যবান।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ কখনোই স্বস্তিতে ছিল না। কারণ একটাই-মুস্তাফিজুর রহমান। নতুন বল হাতে নিয়েই তিনি তৈরি করেন চাপ, আর সেই চাপই ধীরে ধীরে রূপ নেয় ধ্বংসযজ্ঞে। হেনরি নিকোলসকে ফিরিয়ে শুরু, এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচকে একতরফা করে দেন এই বাঁহাতি পেসার।
মাঝে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা ছিল নিক কেলি ও ডিন ফক্সক্রফটের ব্যাটে। কেলির ফিফটি আর ফক্সক্রফটের ৭৫ রানের ইনিংস লড়াইয়ের আভাস দিলেও তা যথেষ্ট ছিল না। কারণ অন্য প্রান্তে উইকেট পড়ার ধারা থামেনি। বাংলাদেশের বোলাররা সম্মিলিতভাবে চাপ ধরে রাখেন, আর মুস্তাফিজ সেই চাপকে পরিণত করেন সাফল্যে।
৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। মুস্তাফিজ একাই নেন ৫ উইকেট-তার ধারাবাহিকতা ও দক্ষতা এই ম্যাচে ছিল পার্থক্য গড়ে দেওয়ার প্রধান কারণ।
শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানের জয় শুধু স্কোরলাইনের ব্যবধান নয়, এটি ছিল মানসিক শক্তি ও কৌশলগত পরিপক্বতার প্রতিফলন। সিরিজের শুরুতে হারের পর যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ, তা প্রমাণ করে এই দল এখন চাপ সামলাতে জানে, সুযোগ কাজে লাগাতে জানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (সাইফ ০, তানজিদ ১, সৌম্য ১৮, শান্ত ১০৫, লিটন ৭৬, হৃদয় ৩৩*, মিরাজ ২২, শরিফুল ১, তানভির ০, মুস্তাফিজ ৩*; ও’রোক ৭-১-৩২-৩, স্মিথ ৯-০-৫০-০, লিস্টার ১০-০-৬২-২, আব্বাস ৫-০-১৬-০, ক্লার্কসন ৩-০-১৯-০, লেনক্স ১০-০-৫০-২, ফক্সক্রফট ৬-০-৩৫-১)।
নিউজিল্যান্ড: ৪৪.৫ ওভারে ২১০/১০ (নিকোলস ৪, কেলি ৫৯, ইয়াং ১৯, ল্যাথাম ৫, আব্বাস ২৫, ফক্সক্রফট ৭৫, ক্লার্কসন ৬, স্মিথ ২, লেনক্স ২, ও’রোক ১, লিস্টার ২*; শরিফুল ৭-০-১৯-১, মুস্তাফিজ ৯-২-৪৩-৫, নাহিদ ১০-১-৩৭-২, তানভির ১০-০-৭০-০, মিরাজ ৮.৫-০-৩৫-২)।
ফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী।
সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: নাজমুল হোসেন শান্ত।
সিরিজসেরা: নাহিদ রানা।










Discussion about this post