শুরুটা যেন এক দুঃস্বপ্নের মতোই ছিল বাংলাদেশের। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই উইকেট হারানো, তারপর অল্প সময়ের মধ্যে আরও দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়-স্কোরবোর্ডে মাত্র ৩২ রান, ততক্ষণে তিন উইকেট নেই। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ তো দূরের কথা, সম্মানজনক সংগ্রহ নিয়েও ছিল শঙ্কা।
কিন্তু সেখান থেকেই গল্পটা বদলাতে শুরু করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস। চতুর্থ উইকেটে তাদের জুটি শুধু ইনিংস মেরামতই করেনি, বরং দলকে এনে দিয়েছে লড়াইয়ের ভিত। ১৬০ রানের এই জুটি ধীরে ধীরে চাপ সরিয়ে এনে দেয় স্বস্তি, আর সেই স্বস্তির ওপর দাঁড়িয়েই বড় সংগ্রহের পথে হাঁটে বাংলাদেশ।
লিটন কুমার দাস খেলেছেন পরিমিত ও দায়িত্বশীল এক ইনিংস। ৯১ বলে ৭৬ রান করে থামলেও তার ব্যাটেই আসে দীর্ঘদিন পর কাঙ্ক্ষিত ফিফটি। প্রায় ১৯ ইনিংস পর অর্ধশতকের দেখা পাওয়া লিটনের এই ইনিংস ছিল সময়োপযোগী, যখন দলকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল স্থিরতার।
তবে দিনের আলোটা পুরোপুরি কেড়ে নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ইনিংসের শুরুতে ধাক্কা সামলে ধৈর্য আর আত্মবিশ্বাসে গড়া তার ব্যাটিং একসময় রূপ নেয় শতরানে। ১১৪ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০৫ রানের ইনিংসটি থামে বড় শট খেলতে গিয়ে, কিন্তু ততক্ষণে দলের ভিত গড়ে দিয়েছেন শক্তভাবে।
এই দুই ব্যাটারের দৃঢ়তায় নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান তোলে বাংলাদেশ। শুরুটা বিবেচনায় নিলে, এই সংগ্রহ নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং। এখন জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডকে করতে হবে ২৬৬ রান।
এই ম্যাচটি শুধু একটি সিরিজ নির্ধারণী লড়াই নয়, অনেকটা অলিখিত ফাইনালও বটে। তিন ম্যাচের সিরিজে দুই দলই একটি করে ম্যাচ জিতেছে। ফলে আজকের জয়ই নির্ধারণ করবে ট্রফির গন্তব্য। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের জন্য ঘরের মাঠে টানা তৃতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুযোগ, এর আগে তারা হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানকে।
দলের একাদশেও ছিল পরিবর্তন। তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেন-এর জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান ও তানভীর ইসলাম।









Discussion about this post