মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে যেন একত্রে দেখা গেল সবকিছু-রেকর্ড, প্রতিরোধ, নাটক আর শেষ পর্যন্ত টাইগারদের দাপট। মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টে বাংলাদেশ পেল এক স্মরণীয় জয়, আর সিরিজ নিশ্চিত করল ২-০ ব্যবধানে। পঞ্চম দিনের লাঞ্চের পরই শেষ হলো ম্যাচ; কিন্তু সেই পর্যন্ত যেতে আয়ারল্যান্ডের টেল এন্ডাররা বাংলাদেশের অপেক্ষাকে টেনে নিল প্রায় ৬০ ওভার ধরে।
আজ ৬ উইকেটে ১৭৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা আয়ারল্যান্ড যে এতদূর যাবে, তা ভাবেনি কেউই। নতুন ইতিহাস লিখলেন কার্টিস ক্যাম্ফার—চতুর্থ ইনিংসে মিরপুরে সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ড এখন তার দখলে। ২৫৯ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ৭১ রানের বীরোচিত ইনিংসেই দাঁড়িয়ে ছিল আয়ারল্যান্ডের প্রতিরোধ।
সকালের সেশনে ম্যাকব্রাইনের সঙ্গে ক্যাম্ফারের ২০৫ বলের জুটিই বাংলাদেশের পরিকল্পনায় আনল দেরি। অবশেষে তাইজুলের বলেই সে জুটি ভাঙে; একই সঙ্গে তাইজুল স্পর্শ করেন বাঁহাতি স্পিনে সবচেয়ে দ্রুত ২৫০ উইকেটের রেকর্ড, রাঙ্গনা হেরাথের পাশে গিয়ে দাঁড়ান তিনি।
মাঝে জর্ডান নিল কিছু সময়ের জন্য ম্যাচে উত্তাপ ছড়ালেন। ৩০ রানের ঝলমলে ইনিংস খেললেও মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান তিনি। কিন্তু আসল নাটক জমল এরপর-গ্যাভিন হোয়ে ও ক্যাম্ফারের ১৯১ বলের ৫৪ রানের জুটি আবারও বাংলাদেশকে অপেক্ষায় রাখল।
শেষমেশ হাসান মুরাদের হাতে ভর করে মিলল সাফল্য। এলবিডব্লিউ হয়ে ৩৭ রানে ফেরেন হোয়ে, রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি। পরের বলেই বোল্ড হন হামফ্রিজ। দুই বলের ব্যবধানে জোড়া আঘাতেই শেষ হয় আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস।
১১৩.৩ ওভার ব্যাট করে ২৯১ রানে থামে অতিথিদের ইনিংস-মিরপুরে চতুর্থ ইনিংসে কোনো সফরকারী দলের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ, সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ড। কিন্তু তাও হেরেছে তারা ২১৭ রানের বিশাল ব্যবধানে।
বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও হাসান মুরাদ নিয়েছেন চারটি করে উইকেট। টেস্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন মুশফিকুর রহিম-তার শততম টেস্টকে এক গৌরবময় জয়ে রাঙানোয় বিশেষ মাত্রাও পেয়েছে এই সাফল্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
বাংলাদেশ: ৪৭৬ ও ৬৯ ওভারে ২৯৭/৪ ডি. (মুমিনুল ৮৭, সাদমান ৭৮, মাহমুদুল ৬০, মুশফিক ৫৩*; হোয়ে ২/৮৪)।
আয়ারল্যান্ড: ২৬৫ ও ২৯১ (ক্যাম্ফার ৭১*, টেক্টর ৫০, হোয়ে ৩৭; মুরাদ ৪/৪৪, তাইজুল ৪/১০৪)।
ফল: বাংলাদেশ ২১৭ রানে জয়ী।
সিরিজ: বাংলাদেশ ২–০ ব্যবধানে জয়ী










Discussion about this post