মিরপুর টেস্টে প্রতিটি দিন যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন গল্প লিখছে আর সেই গল্পের কেন্দ্রে আছেন তাইজুল ইসলাম। কয়েকদিন আগেই সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে তিনি হয়েছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল টেস্ট বোলার। এবার সেই সাফল্যের পথ ধরে ছুঁয়ে ফেললেন বিশ্ব ক্রিকেটের আরেক শীর্ষ মাইলফলক. বাঁহাতি স্পিনে দ্রুততম ২৫০ উইকেটের রেকর্ড।
টেস্ট ইতিহাসে বাঁহাতি স্পিনে সবচেয়ে কম টেস্টে ২৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি এখন যৌথভাবে তাঁর ও রাঙ্গনা হেরাথের দখলে। দুজনই লেগেছেন ৫৭ টেস্ট। এটা শুধু সংখ্যার মিল নয়, ইনিংসের হিসাবেও দুইজনের যাত্রা দাঁড়িয়েছে একই জায়গায় ১০২ ইনিংসে ২৫০ উইকেট। এই তালিকায় তাদের পেছনে পড়ে গেছেন বিষেন সিং বেদি (৬০ টেস্ট) ও রাভিন্দ্র জাদেজা (৬২ টেস্ট), যাদের দুজনকেই সেরা বাঁহাতি স্পিনারদের তালিকায় দীর্ঘদিন ধরে রাখা হয়।
এই ম্যাচে তাইজুলের রেকর্ডের খাতায় যুক্ত হয়েছে একের পর এক মাইলফলক। প্রথম ইনিংসে চার উইকেটে ছুঁয়ে ফেলেন সাকিবকে, দ্বিতীয় ইনিংসে দিনের শুরুতে অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকে ফিরিয়ে পৌঁছে যান ২৫০ উইকেটের সোপানে। ব্রেকথ্রুটি এসেছে দিনের ১৪তম ওভারে যেই ওভারে পুরো দল খুঁজছিল প্রথম উইকেট, সেই ওভারে তাইজুল খুঁজে পান নিজের জীবনের আরেকটি ইতিহাসময় মুহূর্ত।
২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সেন্ট ভিনসেন্টে অভিষেকের দিনেই পাঁচ উইকেট নেওয়া তাইজুল অনেক সময়ই থাকতেন আলোচনার আড়ালে। সাকিবের উপস্থিতি, পরে মেহেদী হাসান মিরাজের উত্থান, এসব তার সুযোগ কমিয়েছে, অনেক সময় তাকে রেখেছে ‘সাপোর্ট বোলার’ পরিচয়ের ভেতর। অথচ দেশের মাটিতে তিনি ছিলেন সবসময়ই অটুট দেয়াল। এখন সাকিবহীন বাংলাদেশে তিনিই স্পিন আক্রমণের ভরসার জায়গা, নীরব বিপজ্জনক অস্ত্র।
এই সিরিজ শুরুর সময় সাকিবের চেয়ে ৯ উইকেট পিছিয়ে ছিলেন তাইজুল। সিলেটে পেয়েছেন পাঁচ উইকেট। মিরপুরে প্রথম ইনিংসে চারটি, আর আজকের সেই ঐতিহাসিক উইকেটে হয়ে গেলেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। সাকিবের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন এমন এক উচ্চতা, যেখান থেকে দেখা যায় শুধুই আরও বড় এক পথচলার শুরু।
৩৩ বছর বয়সী এই স্পিনারের সামনে রয়েছে আরও অনেক টেস্ট, আরও অনেক সুযোগ।










Discussion about this post