দিনটা শুরু হয়েছিল শঙ্কা দিয়ে, শেষ হলো হিসাব-নিকাশে। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, ক্রিকেটে কখনও কখনও প্রতিপক্ষ শুধু মাঠের ১১ জন নয়-আকাশও হতে পারে বড় ফ্যাক্টর।
আজ মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বৃষ্টি বিঘ্নিত ১৫ ওভারের ম্যাচে ১৪ ওভার ২ বল খেলে অলআউট হয়ে ১০২ রান করেছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন তাওহিদ হৃদয়।
তিন ম্যাচের সিরিজের শেষ লড়াইয়ে আগে ব্যাট করতে নেমেছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। শুরুতে সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক ছন্দে। সাইফ হাসান কিছুটা আক্রমণাত্মক ছিলেন, আর তানজিদ হাসান তামিম চেষ্টা করছিলেন ইনিংসটা ধরে রাখতে। কিন্তু টি-টোয়েন্টির দ্রুতগতির খেলায় ছোট ছোট ভুলই বড় হয়ে ওঠে-দুজনেই ফিরে গেলে শুরুতেই ধাক্কা খায় দল।
এরপরই চাপে পড়ে ব্যাটিং লাইনআপ। পারভেজ হোসেন ইমন শূন্য হাতে ফেরার পর স্কোরবোর্ড যেন থমকে যায়। ঠিক তখনই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক লিটন দাস। তার ব্যাট থেকে আসতে থাকে আত্মবিশ্বাসী শট, গতি পায় রান। তিন উইকেট হারিয়ে ৫০—এই অবস্থায় মনে হচ্ছিল, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশ।
কিন্তু ক্রিকেটের গল্পে নাটকীয় মোড় আনতে বৃষ্টি যেন সবসময় প্রস্তুত থাকে। খেলা থেমে গেল, বদলে গেল সময় আর ওভারের সমীকরণ। ২০ ওভারের ম্যাচ নেমে এলো ১৫ ওভারে, পাওয়ারপ্লে ছোট হলো, ব্যাটারদের হাতে সময় কমে গেল।
বিরতির পর নতুন বাস্তবতায় নামতে হলো ব্যাটারদের। কিন্তু সেই মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াতেই ছন্দ হারাল দল। লিটন ২৬ রান করে বিদায় নেওয়ার পর আর কেউ ইনিংসটাকে লম্বা করতে পারেননি। তাওহিদ হৃদয় চেষ্টা করেছিলেন, তার ৩৩ রানের ইনিংসটাই হয়ে থাকল সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক। তবে শামীম হোসেন পাটোয়ারীসহ বাকিরা ব্যর্থ হওয়ায় বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ভেঙে যায় দ্রুতই।
শেষ পর্যন্ত ১৪.২ ওভারে ১০২-সংখ্যাটা খুব বড় নয়, আবার একেবারে ছোটও নয়। কিন্তু টি-টোয়েন্টির এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণে, বিশেষ করে ওভার কমে গেলে, এমন স্কোর সবসময়ই অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে।
অন্যদিকে বোলিংয়ে শৃঙ্খলিত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল। জশ ক্লার্কসন ছিলেন সবচেয়ে সফল, তার তিন উইকেট বাংলাদেশকে বড় স্কোরের পথে যেতে দেয়নি। পাশাপাশি নাথান স্মিথ ও বেন সিয়ার্স গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আঘাত হেনেছেন।
ম্যাচের পেছনের গল্পটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ছিল জয়ের সুযোগ, আবার ড্র নিশ্চিত করারও সুযোগ। কিন্তু বৃষ্টির কারণে তৈরি হওয়া অদ্ভুত সমীকরণ ম্যাচটিকে করে তোলে আরও অনিশ্চিত।










Discussion about this post