অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত হওয়ার পরও আত্মতুষ্টির কোনো লক্ষণ নেই বাংলাদেশ শিবিরে। বরং শেষ ওয়ানডেকে ঘিরে এখন নতুন এক চ্যালেঞ্জ সামনে দেখছেন ক্রিকেটাররা। সেটি হলো বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ শেষ করা। রোববার অজিদের হোয়াইট ওয়াশের মিশনে নামবে টাইগাররা।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসে সেই মানসিকতারই প্রতিফলন ঘটালেন সৌম্য সরকার। তার মতে, সিরিজ জয় নিঃসন্দেহে উদযাপনের মতো অর্জন, তবে শেষ ম্যাচ জিতে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে সেটির গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে।
সৌম্য বলেন, ‘হোয়াইটওয়াশ অবশ্যই অনেক বড় অর্জন হবে। যখন সিরিজ জিতেছি, এটাই অনেক বড় অর্জন। এটাই অনেক বড়ভাবে উদযাপন করা উচিৎ ছিল। ৩-০ ব্যবধানে জিততে পারলে আরও বড় অর্জন হবে। আমাদের সবার লক্ষ্যও থাকবে এটা। ইতিবাচক ক্রিকেট খেলব। যারা তিন বিভাগেই ভালো করবে, তারাই জিতবে।’
দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলের একাদশে ফিরে আসা সৌম্যের কাছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হঠাৎ সুযোগ পাওয়া নতুন কিছু নয়। তবে এমন পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ থাকাটা স্বাভাবিক বলেই মনে করেন তিনি।
সৌম্যের ভাষায়, ‘শুধু আমার জন্য না, যেকোনো ক্রিকেটার যখন হুট করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যায় চাপ থাকে। শুধু আমার জন্য না। আমরা ক্রিকেটার, খেলতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দলকে ভালো কিছু উপহার দিতে হবে।’
জাতীয় দলের পরিবেশ নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। দল থেকে বাদ পড়া কিংবা সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে এখন খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্পষ্ট যোগাযোগ রাখা হয় বলে জানান তিনি, ‘এখন অনেক ভালো। এখন অনেক ক্লিয়ার থাকে সবাই। জানানো বা বোঝানোর চেষ্টা করে কী কারণে হচ্ছে। দলেরও লক্ষ্য আছে, সেটার মধ্য দিয়েই সবাই যাচ্ছে।’-বলেন সৌম্য।
তবে তার বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানাদের পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি।
সৌম্য বলেন, ‘আমার দেখা যেটা, অন্যতম সেরা পেস বোলিং ইউনিট আমাদের যেকোনো কন্ডিশনে, যেকোনো দেশে। যেকোনো দল আমাদের সাথে খেলতে গেলে অবশ্যই চিন্তা করবে। আমাদের যে অ্যাটাক আছে তাদের নিয়ে। বাইরে খেলতে গেলেও চিন্তা করবে ফাস্ট বোলিং বান্ধব পিচ বানাব কি না। খুব ভালো সময় যাচ্ছে পেসারদের, এত ভালো করছে।’
তার মতে, একসময় বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি ছিল স্পিন আক্রমণ। এখন সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন পেসাররা। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই সম্পদকে যত্নের সঙ্গে পরিচালনা করার তাগিদও দিয়েছেন তিনি, ‘উইনিং রেশিওতে আগে স্পিন অনেক সহায়তা করত, এখন যেটা ফাস্ট বোলাররা করছে। তাদের অনেক যত্ন করা উচিৎ যেন লম্বা সময় দলকে ভালোর দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং তাদের দেখে পরবর্তীরা ভালো করতে পারে, নিজেকে তৈরি করে পাইপলাইনে এসে যারা আছে ওদের নক করতে পারে। তাহলে ভালো প্রতিযোগিতাও হবে, ভবিষ্যতেও ঘাটতি হবে না।’-যোগ করেন সৌম্য।
এদিকে তৃতীয় ওয়ানডের আগে বাংলাদেশ স্কোয়াডে যুক্ত হয়েছেন অফস্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান। বিসিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ দলের সঙ্গে থাকলেও তার ফিটনেস নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ম্যাচের দিন তার অবস্থা পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে।









Discussion about this post