বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) টানা তিন ম্যাচে হারার হতাশা কাটিয়ে অবশেষে জয়ের স্বাদ পেল ঢাকা ক্যাপিটালস। নাসির হোসেনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে আবারও আলোচনায় রাজধানীর দলটি। অন্যদিকে এই হারের মধ্য দিয়ে চলতি আসরে নোয়াখালীর দুর্দশা আরও বেড়েছে, কারণ এটি তাদের টানা পঞ্চম পরাজয়।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালী এক্সপ্রেস শুরু থেকেই চাপে পড়ে। আগের ম্যাচে মাত্র ৬১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার স্মৃতি যেন পিছু ছাড়ছিল না। ৪০ রানের মধ্যেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়। সেই অবস্থায় হাল ধরেন হায়দার আলি ও মোহাম্মদ নাবি। হায়দার ৪৭ রান করে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন, আর নাবি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৪২ রান যোগ করেন। তাদের লড়াইয়েই নোয়াখালী নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রানের পুঁজি পায়। ঢাকার হয়ে ইমাদ ওয়াসিম ছিলেন সবচেয়ে কিপটে, চার ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।
১৩৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ঢাকার শুরুটা ছিল নড়বড়ে। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে ফিরে যান রাহমানউল্লাহ গুরবাজ। এরপর তৃতীয় ওভারে আউট হন আরেক ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মামুন। মাত্র ১৪ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ঢাকা ক্যাপিটালস। ঠিক সেই সময়ই দৃশ্যপটে আসেন নাসির হোসেন।
ক্রিজে পা রেখেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। পাওয়ার প্লের মধ্যেই তিনি একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
প্রথম ছয় ওভারে ঢাকার স্কোর দাঁড়ায় ৬৪ রান, যার সিংহভাগ আসে নাসিরের ব্যাট থেকে। মাত্র ২১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে তিনি এবারের বিপিএলের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন। আগের রেকর্ডটি ছিল কাইল মেয়ার্সের, যিনি ২৩ বলে ফিফটি করেছিলেন।
নাসিরের ব্যাটিংয়ে ছিল আগ্রাসন আর আত্মবিশ্বাসের মিশেল। মোহাম্মদ নবির এক ওভারে চারটি চার মারেন তিনি, মাজ সাদাকাতের ওভারে তিন চার ও এক ছক্কায় তোলেন ১৮ রান। এরপর রেজাউর রহমান রাজার ওভারে টানা বাউন্ডারিতে পাওয়ার প্লের মধ্যেই পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলেন। প্রথম তিন ওভারে ঢাকার সংগ্রহ যেখানে ছিল ১৪ রান, সেখানে পরের তিন ওভারে নাসিরের ব্যাটে রান আসে ৫০।
অন্য প্রান্তে ইরফান শুক্কুর ছিলেন অনেকটাই নিরব। জুটির ৫০ রানের মধ্যে তার অবদান ছিল মাত্র ৬। পরে তিনি ১২ রান করে আউট হলেও ঢাকার জয়ের পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি। নাসির এরপর ইমাদ ওয়াসিমকে সঙ্গে নিয়ে সহজেই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান। এই অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৪০ বলে আসে ৬৪ রান। ইমাদ ব্যাট হাতে ১৬ বলে ২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।
শেষ পর্যন্ত ১৪.১ ওভারেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ঢাকা ক্যাপিটালস। নাসির হোসেন অপরাজিত থাকেন ৫০ বলে ৯০ রান করে, যেখানে ছিল ১৪টি চার ও ২টি ছক্কা। এটি টি-টোয়েন্টিতে তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস এবং একই সঙ্গে নিজের দ্রুততম ফিফটি। এক সময় যাকে নিয়ে বলা হতো তার সেরা দিন ফুরিয়ে গেছে, সেই নাসিরই এই ইনিংস দিয়ে প্রমাণ করলেন অভিজ্ঞতা এখনও বড় শক্তি।
ব্যাটে-বলে দারুণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য নাসির হোসেনই নির্বাচিত হন ম্যাচসেরা। তার নৈপুণ্যে যেমন ঢাকা ক্যাপিটালস পেল স্বস্তির জয়, তেমনি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হতাশার তালিকায় যোগ হলো আরও একটি ম্যাচ।










Discussion about this post