বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নতুন আসর শুরুর কথা ছিল ক্রিকেট উৎসবের আবহে। বাস্তবে সেই শুরু হলো বিতর্ক, অস্থিরতা আর অব্যবস্থাপনার বোঝা কাঁধে নিয়ে। বিপিএলের ইতিহাসে নতুন কিছু নয়, তবে এবারের দ্বাদশ আসরে যেভাবে মাঠে নামার আগেই একের পর এক সংকট সামনে এসেছে, তা লিগটির পেশাদার কাঠামো নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
শুরুর আগের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ঘিরে। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক দিন আগে দলটির মালিকানা ছেড়ে দেয় ট্রায়াঙ্গল সার্ভিসেস। আর্থিক দায় পূরণে ব্যর্থ হওয়া এই ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পর্যন্ত দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত বিসিবিকে সরাসরি দায়িত্ব নিতে হয় দলটির। তড়িঘড়ি করে কোচ, টিম ডিরেক্টর ও ম্যানেজার নিয়োগ দিয়ে একপ্রকার জরুরি ব্যবস্থার মধ্যেই মাঠে নামতে হচ্ছে চট্টগ্রামকে।
চট্টগ্রামের ঘটনাই শেষ নয়। নোয়াখালী এক্সপ্রেসও শুরুর আগেই আলোচনায় আসে অনুশীলন অব্যবস্থাপনার কারণে। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন ও সহকারী কোচ তালহা জুবায়ের। দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণাও আসে ক্ষোভের মুহূর্তে। পরে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বৈঠকের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও এই ঘটনাই বুঝিয়ে দেয়, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ভেতরের প্রস্তুতি কতটা নড়বড়ে।
এই দলটিতেই আবার দেখা গেছে আরেক চমক। জাতীয় দলের একাধিক পরিচিত মুখ থাকলেও অধিনায়ক করা হয়েছে সৈকত আলীকে। কোচের ক্ষোভ, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আর নেতৃত্ব নির্বাচন, সব মিলিয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসও আস্থার জায়গা তৈরি করতে পারেনি।
এই দুই ঘটনার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিসিবির ওপর। বিপিএলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন চাপের কথা। তাঁর মতে, এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন করে দল সামলানো এবং পুরো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা অত্যন্ত কঠিন। পাঁচ বছরের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই যাচাই-বাছাই কতটা কার্যকর ছিল, তা চট্টগ্রামের ঘটনাতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।
মাঠের বাইরের এই অস্থিরতার মধ্যেই আজ সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে বিপিএলের দ্বাদশ আসর। প্রথম ম্যাচে সিলেট টাইটানস খেলবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে, এরপর মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস। তবে এবার নেই পরিচিত উদ্বোধনী জৌলুস। হয়নি ট্রফি উন্মোচন, অধিনায়কদের ফটোসেশন কিংবা টাইটেল স্পন্সরের ঘোষণা। একটি আন্তর্জাতিক মানের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে যা সাধারণত শুরুর আগেই সম্পন্ন থাকে, বিপিএলে তা এখনো অনিশ্চিত।
গত মৌসুমের বিতর্কের পর স্বচ্ছতা ফেরাতে বিসিবি দুর্নীতি দমন ইউনিটকে সক্রিয় করেছে এবং কিছু ক্রিকেটারকে টুর্নামেন্টের বাইরে রাখা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের যুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। তবু বিদেশি ক্রিকেটারদের মান, দলের গভীরতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশয় কাটেনি।










Discussion about this post