নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এবার ভিন্ন এক মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ। অতীতের মতো শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই ইংল্যান্ডে যাচ্ছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোতে সাফল্য না এলেও দলের ভেতরে তৈরি হওয়া নতুন আত্মবিশ্বাস বিশ্বকাপের আগে আশাবাদী করে তুলছে অধিনায়ক ও কোচিং স্টাফকে।
আগামী ১২ জুন ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মাটিতে শুরু হবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে স্কটল্যান্ডে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে আয়োজিত এই সিরিজকে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে দলটি। ১৪ জুন বার্মিংহামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলের লক্ষ্য পরিষ্কার করে দিয়েছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। মিরপুরে আজ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে যে ক্ষুধাটা আছে-শুধু বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ভালো খেলাই নয়, আমরা ম্যাচ জিততে চাই। সেই জায়গা থেকে ভাবলে আমার মনে হয়, এবার আমরা আরও ভালোভাবে অন্তত দুই থেকে তিনটি ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। দলে এখন যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, তাতে কয়েকজন ক্রিকেটার অনেক বেশি ধারাবাহিক। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে তারা ব্যক্তিগতভাবে অনেক ভালো ক্রিকেট খেলছে। তাই আমরা যদি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দল হিসেবে সম্মিলিতভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে অবশ্যই আগের অনেক বিশ্বকাপের তুলনায় ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।’
বাংলাদেশ নারী দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে কিছু সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে। ব্যাটিংয়ে ধীরগতি, ফ্ল্যাট উইকেটে সুবিধা নিতে না পারা এবং পেস বোলিংয়ে বিকল্পের অভাব দলকে ভুগিয়েছে। তবে প্রধান কোচ সরোয়ার ইমরান মনে করছেন, প্রস্তুতির দিক থেকে এবার মেয়েরা অনেক এগিয়ে। তাঁর ভাষায়, গত কয়েক মাস ধরে ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেট বাড়াতে বিশেষভাবে কাজ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অনুশীলনে যে কাজগুলো করেছি, সেগুলো যদি তারা ম্যাচে করতে পারে, তাহলে আমাদের সব ব্যাটারের স্ট্রাইক রেটই ১০০-এর ওপরে থাকবে।’
স্কটল্যান্ডের কন্ডিশনকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য আদর্শ মনে করছেন জ্যোতি। তার মতে, স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের আবহাওয়া এবং উইকেটের ধরন প্রায় একই হওয়ায় এই সিরিজ দলকে বাড়তি সুবিধা দেবে। জ্যোতি বলেন, ‘স্কটল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের কন্ডিশন, আবহাওয়া ও উইকেট প্রায় একই রকম থাকে। এই সিরিজ আমাদেরকে ইংল্যান্ডে খেলার জন্য অনেক বেশি সাহায্য করবে। যদি আমরা সিরিজটা জিততে পারি, সেটা ইতিবাচক হবে।’
অধিনায়ক হিসেবে নিজের ব্যাটিং নিয়েও সচেতন জ্যোতি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাম্প্রতিক সিরিজে রান না পেলেও বিশ্বকাপে ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি। জ্যোতি বলেন, ‘সবাই চায় বিশ্বকাপে ভালো খেলতে। আমি যেখানে ব্যাটিং করি, আমার কাছ থেকে দল অনেক প্রত্যাশা রাখে। পরিস্থিতির যেমন চাওয়া থাকবে, আমি চেষ্টা করব সেভাবেই অবদান রাখতে।’
স্পিন বোলিং বরাবরই বাংলাদেশের বড় শক্তি। এবারও সেই নির্ভরতাই বেশি থাকবে। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনেও মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ পেসার নিয়ে খেলার পরিকল্পনা করছে দল। যদিও বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন কোচ সরোয়ার ইমরান। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিং, ফিল্ডিং, স্পিন বোলিং—এই তিনটি বিভাগ আমরা শক্তিশালী করতে চাই। পেস বোলিং নিয়ে আমরা এত মাথা ঘামাচ্ছি না। মারুফা যদি একটা ভালো শুরু দিতে পারে, আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারব।’
স্পিন বিভাগের বড় ভরসা নাহিদা আক্তারও আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের আছে। চ্যালেঞ্জ যদি নিতে না পারি, তাহলে তো উন্নতি করতে পারব না। সব জায়গায় সব রকম পরিস্থিতিতে বোলিং করার শক্তি আমাদের আছে।’
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডস। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকলেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অনিশ্চয়তাকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে দলটি। কোচ সরোয়ার ইমরানও বিশ্বাস করেন, এই সংস্করণে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব।
দলের ভেতরে নতুন পারফর্মারদের উত্থান বাংলাদেশকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে বলে মনে করেন জ্যোতি। তিনি বলেন, ‘গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা দুবাইয়ে একটি ম্যাচ জিতেছিলাম। এরপর কয়েকটি ভালো উইকেটেও খেলেছি, কিন্তু ম্যাচ জিততে পারিনি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার আমার কাছে মনে হচ্ছে, আমাদের আরও বেশি ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা আছে। কারণ, আমি মনে করি এখন দলের ভেতরে অনেক নতুন পারফর্মার যুক্ত হয়েছে, যা আগে ছিল না। আগে দল অনেকটাই দুই-একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু এখন কয়েকজন ক্রিকেটার উঠে আসছে, যারা নিয়মিত দলের পারফরম্যান্সে অবদান রাখছে।’
বিশ্বকাপের আগে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতির বিষয়টি নিয়ে যদি বলি, আগে আইসিসির বড় কোনো টুর্নামেন্টের আগে আমরা সাধারণত আন্তর্জাতিক সিরিজ বা পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতাম না। এটা আমাদের জন্য সবসময়ই একটা আক্ষেপের জায়গা ছিল। তবে এবার পরিস্থিতিটা ভিন্ন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমরা ইতোমধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলেছি, সামনে ত্রিদেশীয় সিরিজে আরও চারটি ম্যাচ খেলব। তাই প্রস্তুতির দিক থেকে এর চেয়ে আদর্শ পরিস্থিতি খুব বেশি হতে পারে না।’









Discussion about this post