আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলেও সাকিব আল হাসানের খেলায় তার ছাপ স্পষ্ট। প্রায় ১৪ মাস ধরে জাতীয় দলের জার্সিতে না খেললেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার উপস্থিতি এখনো প্রতিপক্ষের জন্য সমানভাবে চ্যালেঞ্জিং। পাকিস্তান সুপার লিগ, ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগ কিংবা আন্তর্জাতিক লিগ টি-টোয়েন্টি-সব জায়গাতেই অভিজ্ঞতা ও নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে দলের ভরসা হয়ে উঠছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।
আইএল টি-টোয়েন্টির লিগ পর্বের শেষ দিকে দুবাই ক্যাপিটালসের বিপক্ষে এমআই এমিরেটসের ম্যাচে সেটিরই প্রমাণ মিলেছে। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করা দুবাই ক্যাপিটালস ২০ ওভারে ৮ উইকেটে সংগ্রহ করে ১২২ রান।
এই মাঝারি পুঁজি গড়তে না পারার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল সাকিবের নিখুঁত বোলিং। চার ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে একটি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি তিনি পুরো স্পেলজুড়েই ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করে রাখেন। ছন্দে থাকা শায়ান জাহাঙ্গীরকে ফিরিয়ে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন সাকিব। তার স্পেলে ছিল ১৫টি ডট বল, আর কোনো চার বা ছক্কা হজম করতে হয়নি।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এমআই এমিরেটস কোনো বিপদে না পড়েই ২০ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ে তারা সেরা দুইয়ে থেকে প্লে-অফে ওঠার পথ নিশ্চিত করে নেয়।
এই ম্যাচের আগে আইএল টি-টোয়েন্টির অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নিজের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন সাকিব। সেখানে তিনি শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারার একটি পরামর্শের কথা উল্লেখ করেন। সাকিব জানান, শরীরের কার্যকারিতা কমে গেলে অনুশীলনের মাত্রা বাড়ানো জরুরি—এই উপলব্ধি সাঙ্গাকারা তাকে কয়েক বছর আগে দিয়েছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেই কথার গুরুত্ব আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছেন বলেও জানান।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে অসংখ্য সাফল্য পাওয়া সাকিব মাঝেমধ্যে বিরতিতে গেলেও ফিরে আসার সময় নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেন। চলতি আইএল টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতে বড় ইনিংসের সুযোগ খুব বেশি না পেলেও বল হাতে তিনি ছিলেন ধারাবাহিক। পাঁচ ম্যাচে ৫.৮৫ ইকোনমিতে তিন উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ডেজার্ট ভাইপার্সের বিপক্ষে চার ওভারে ১৭ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।
সাকিবের মতে, তার ভেতরের ক্রিকেটের ক্ষুধা এখনো শেষ হয়নি। তিনি বিশ্বাস করেন, ম্যাচে ব্যাটাররা ভিত তৈরি করলেও জয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব বোলারদেরই নিতে হয়। তাই বোলিংয়ের গুরুত্ব কখনোই কমে না, এই দর্শন থেকেই নিজের বোলিংয়ে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি।
দুবাই ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচে এমআই এমিরেটসের হয়ে ম্যাচসেরা হন তরুণ স্পিনার মোহাম্মদ গজনফার, যিনি চার ওভারে ২৮ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। লিগ পর্ব শেষে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে শেষ করেছে ডেজার্ট ভাইপার্স, আর ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে এমআই এমিরেটস।










Discussion about this post