সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের এই ম্যাচটি যেন ছিল টানটান এক চলচ্চিত্র। কোথাও হাল ছাড়ার সুযোগ নেই, কোথাও আগেভাগে জয়ের নিশ্চয়তা নেই। একের পর এক নাটকীয় মুহূর্ত পেরিয়ে অবশেষে শেষ বলে এক রানের সমীকরণ মেলাতে সক্ষম হয় সিলেট টাইটান্স।
আজ প্রথমে ব্যাট করতে নেমেই নড়বড়ে শুরু করে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। দুই ওপেনার শূন্য রানে ফিরে গেলে দ্রুত চাপ বাড়ে। পাওয়ারপ্লে শেষেই মাত্র ২৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে তারা। ইনিংসের মাঝপথে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন দায়িত্ব নেন দলের স্কোরবোর্ড এগিয়ে নেওয়ার। ধৈর্য, সময়ক্ষেপণ আর প্রয়োজনমতো শট খেলে তিনি ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন।
শেষদিকে জাকের আলী অনিকের আগ্রাসনে কিছুটা গতি পায় নোয়াখালীর রান। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে অঙ্কন নিজের ইনিংসকে পূর্ণতা দেন। তার অপরাজিত ৬১ রানের ওপর ভর করেই নোয়াখালী দাঁড় করায় ১৪৩ রানের লড়াইয়ের পুঁজি।
সিলেটের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে ধারালো ছিলেন খালেদ আহমেদ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে নোয়াখালীর বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা নষ্ট করেন তিনি।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সিলেটও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি। শুরুতেই দুই ওপেনারের বিদায়ে ম্যাচ ফের অনিশ্চিত হয়ে ওঠে। সেই সময় পারভেজ হোসেন ইমন ও মেহেদী হাসান মিরাজ ধীরে সুস্থে ইনিংস সামলান। ঝুঁকি কমিয়ে তারা রান তোলেন, ম্যাচকে নিয়ে যান শেষ ওভার পর্যন্ত।
ইমন আউট হওয়ার পর চাপটা আবারও বাড়ে। সেই সুযোগ কাজে লাগান নোয়াখালীর মেহেদী হাসান রানা। নিজের শেষ ওভারে পরপর তিন বলে তিন উইকেট তুলে নিয়ে পুরো স্টেডিয়াম স্তব্ধ করে দেন তিনি। হ্যাটট্রিকের পর মনে হচ্ছিল ম্যাচ বুঝি হাতছাড়া সিলেটের।
কিন্তু ক্রিকেট যে শেষ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলে, সেটাই আবার প্রমাণ হয়। শেষ ওভারে নো বল, ফ্রি হিটে ছক্কা, এরপর রানআউট—সব মিলিয়ে সমীকরণ দাঁড়ায় এক বলে এক রান। শেষ পর্যন্ত ঠান্ডা মাথায় কাজটি সারেন সিলেটের ব্যাটাররা।
চার উইকেট ও একটি হ্যাটট্রিক নেওয়া সত্ত্বেও পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে নোয়াখালী। আর সিলেট টাইটান্স উদযাপন করে এমন এক জয়, যা বিপিএলের রোমাঞ্চপ্রিয় দর্শকদের জন্য হয়ে থাকবে স্মরণীয়।










Discussion about this post