টেস্ট সিরিজের পর ওয়ানডেতেও হতাশাজনক শুরু করেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ২৫ রানে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে টাইগাররা। বোলিংয়ে নাহিদ রানার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও শেষ পর্যন্ত দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেনি।
আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ১৪১ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের হয়ে একাই ৬ উইকেট শিকার করেন নাহিদ রানা। তবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় জয় অধরাই থেকে যায়। আগুনঝরা বোলিংয়ে ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ২১ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং ফিগারের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
এর আগে এই রেকর্ডের যৌথ মালিক ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক দুই পেসার মাশরাফি বিন মর্তুজা ও রুবেল হোসেন। দুজনই ২৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন। ২০০৬ সালে নাইরোবিতে কেনিয়ার বিপক্ষে ১০ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেছিলেন মাশরাফি। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ৬ উইকেটের জয় পেয়েছিল।
এর সাত বছর পর ২০১৩ সালে মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৫.৫ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন রুবেল হোসেন। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে বৃষ্টি আইনে ৪৩ রানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে অক্ষত থাকা সেই রেকর্ড এবার নিজের করে নিলেন নাহিদ রানা
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের ব্যাটিং নিয়ে আফসোস প্রকাশ করেন নাহিদ রানা। তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে যে, আমরা শুরুটা ভালো করেছিলাম বোলিংয়ে। তবে ব্যাটিংয়ে শুরুটা সেভাবে ভালো করতে পারিনি। ভালো একটা বড় জুটি হলে এবং ব্যাক টু ব্যাক উইকেট না পড়লে ভালো হতে পারত কিন্তু সবাই সবার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছে।’
নিচের সারির ব্যাটারদের প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেন এই পেসার। নাহিদ রানা বলেছেন, ‘১৫ জন স্কোয়াডে থাকে, ১১ জন খেলে। সবসময় ১১ জনেরই ব্যাট করার জন্য প্রস্তুতি রাখা উচিত, যেকোনো সময় ব্যাট করার সুযোগ আসতে পারে।’
নিজের বোলিং এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘শুরুতে আলহামদুলিল্লাহ। শেষের যে জুটি হয়েছিল তা যদি আরও আগে ভাঙতে পারতাম হয়ত ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। সেখানে বোলাররা মনে হয় একটু লুজ বোলিং করেছি। অবশ্যই, সবসময় বোলিং উপভোগ করি। যে দিনটা আমার যাবে, চেষ্টা করি আমার করে নেওয়ার। চেষ্টা থাকে দলকে জেতানো। আজকে পারিনি। শেষের জুটিটা যদি বোলাররা আগে ভাঙতে পারতাম তাহলে হয়ত (দলকে জেতানো যেত)।’
প্রথম টেস্টে না খেলা এবং সামনের ম্যাচগুলো নিয়ে নাহিদ রানা বলেন, ‘প্রতিটি সিরিজই আত্মবিশ্বাস দেয়, জিতলে। প্রথম টেস্ট আসলে মিস বলব না, ওয়ার্কলোডের জন্য রাখা হয়নি আমাকে। সামনে ম্যাচ ছিল সেগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।’
সিরিজে সমতা ফেরানোর সুযোগ বাংলাদেশের সামনে খুব দ্রুতই আসছে। দুই দলের মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ জুলাই।










Discussion about this post