গতি নয়, বুদ্ধি আর বৈচিত্র্য-এই দুই অস্ত্রেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। কাটার আর স্লোয়ারের নিখুঁত ব্যবহারে ব্যাটারদের ছন্দ ভেঙে দেওয়াই যেন তার বিশেষত্ব। ডেথ ওভারে ধারাবাহিক ডট বলের চাপে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার দক্ষতায় এবার গড়লেন নতুন এক রেকর্ড।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৩০০০ ডট বলের মাইলফলক স্পর্শ করা পঞ্চম পেসার এখন মুস্তাফিজ। ৩২৪ ইনিংসে বল করে তিনি ইতোমধ্যে ৩০০২টি ডট বল করেছেন, যা তার ধারাবাহিকতা ও নিয়ন্ত্রণেরই প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।
এই তালিকায় শীর্ষে আছেন ডোয়াইন ব্র্যাভো, যিনি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৩৬৮১টি ডট বল করেছেন। তার পরেই আছেন মোহাম্মদ আমির, আন্দ্রে রাসেল। এবং সোহেল তানভীর। এই তালিকায় জায়গা করে নেওয়া মুস্তাফিজ এখন কার্যত টি-টোয়েন্টির সেরা পেসারদের এলিট ক্লাবের অংশ।
তবে পরিসংখ্যানের লড়াই এখানেই থেমে নেই। বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের দৌড়েও জমে উঠেছে প্রতিযোগিতা। এই তালিকায় শীর্ষে থাকা আমিরের ৪১৮ উইকেটের খুব কাছেই আছেন মুস্তাফিজ, যার ঝুলিতে রয়েছে ৪১৬ উইকেট। ফলে আর মাত্র কয়েকটি উইকেটই তাকে নিয়ে যেতে পারে শীর্ষস্থানে।
চলমান পিএসএলেও এই দুই পেসার খেলছেন ভিন্ন দলে। পারফরম্যান্সের হিসেবে উইকেটে আমির কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ইকোনমি রেটে স্পষ্টভাবে এগিয়ে মুস্তাফিজ। যেখানে আমিরের ইকোনমি তুলনামূলক বেশি, সেখানে মুস্তাফিজ কম রান খরচ করেই দলের জন্য নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখছেন।
সাম্প্রতিক ম্যাচে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে ছোট লক্ষ্য রক্ষা করতে না পারলেও মুস্তাফিজ নিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের ছাপ রেখেছেন। সীমিত ওভারে রান আটকে রাখা এবং ডট বল তৈরি করার দক্ষতা তাঁকে এখনও আলাদা করে চেনায়। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত তাঁর করা ১০ ওভারের মধ্যে ২১টি বলেই কোনো রান নিতে পারেনি প্রতিপক্ষ।










Discussion about this post