দীর্ঘ অনিশ্চয়তা আর জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে দেশের ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)। বোর্ড ও ক্লাবগুলোর মধ্যে দূরত্বের কারণে নির্ধারিত সময়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন সম্ভব না হলেও সাম্প্রতিক বৈঠকে মিলেছে সমাধানের পথ। বিকেলে অনুষ্ঠিত সভায় ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে লিগ শুরুর সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এপ্রিলের শেষ ভাগ থেকে মে মাসের শুরু পর্যন্ত।
সভা শেষে ক্লাব প্রতিনিধিরা জানান, ২২ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে লিগ শুরুর একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও বেশিরভাগ ক্লাবই কিছুটা সময় বাড়িয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আসর শুরু করার পক্ষে মত দিয়েছে। বিসিবি আনুষ্ঠানিক সূচি ঘোষণা করবে আগামী সপ্তাহে, আর তার আগে চলতি মাসেই সম্পন্ন হবে দলবদল প্রক্রিয়া।
এবারের ডিপিএলের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে ফরম্যাটে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত সুপার লিগ পদ্ধতি বাদ দিয়ে এবার খেলা হবে সিঙ্গেল লিগ ভিত্তিতে। অর্থাৎ প্রতিটি দল নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচ খেলবে এবং লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দলই হবে চ্যাম্পিয়ন। ক্লাব প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সময় ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
লিগ আয়োজনকে আরও গতিশীল করতে একসঙ্গে ছয়টি ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাবও এসেছে। এতে করে একই দিনে একাধিক ম্যাচ শেষ করা সম্ভব হবে এবং পরদিন রাখা হবে রিজার্ভ ডে, যাতে আবহাওয়া বা অন্য কোনো কারণে খেলা ব্যাহত হলে দ্রুত পুনঃনির্ধারণ করা যায়। সম্ভাব্য ভেন্যুর তালিকায় রয়েছে বসুন্ধরা, বিকেএসপি, পিকেএসপি, ক্রিকেটার্স একাডেমি ও সিলিকন ভ্যালি গ্রাউন্ডসহ ঢাকার আশপাশের কয়েকটি মাঠ।
গত আসরের মতো এবারও ডিপিএলে দেখা যাবে না কোনো বিদেশি ক্রিকেটার। সব ক্লাবই এ বিষয়ে একমত হয়েছে, ফলে স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য আরও বড় মঞ্চ তৈরি হচ্ছে নিজেদের প্রমাণ করার।
তবে শুধু খেলার কাঠামো নয়, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে এবারের আলোচনায়। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়ার কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রতিটি ম্যাচে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স রাখার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে বোর্ড, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।










Discussion about this post