করাচির জাতীয় স্টেডিয়ামে এক রাতেই নিজের গল্পটা বদলে ফেললেন নাহিদ রানা। যে পেসারকে আগের ম্যাচে কিছুটা খরুচে মনে হয়েছিল, তিনিই পরের ম্যাচে হয়ে উঠলেন অপ্রতিরোধ্য। গতি, বাউন্স আর নিখুঁত লেংথে করাচি কিংসের ব্যাটারদের যেন দম নেওয়ার সুযোগই দেননি তিনি। তাঁর চার ওভারের স্পেলে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়া শুধু পরিসংখ্যান নয়, ম্যাচের পুরো ছন্দটাই বদলে দিয়েছে।
পিএসএলে গত রাতে শুরুর দিকেই বোঝা যাচ্ছিল, নাহিদ ভিন্ন মেজাজে আছেন। বল হাতে এসে প্রথম থেকেই ব্যাটারদের চাপে রাখেন। ডট বলের পর ডট বল, মাঝে হঠাৎ তীক্ষ্ণ বাউন্সার-এই মিশ্রণে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে করাচির ব্যাটিং লাইনআপ। সাদ বাইগকে নিজেই ক্যাচ নিয়ে ফেরানো, খুশদিল শাহকে উইকেটের পেছনে পাঠানো আর অ্যাডাম জাম্পাকে বোল্ড করে দেওয়া-প্রতিটি উইকেটেই ছিল আলাদা পরিকল্পনার ছাপ।
পাকিস্তানের উইকেটে এর আগেও নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন নাহিদ। তাই এই কন্ডিশনে তার আত্মবিশ্বাসটা চোখে পড়ার মতো ছিল। উচ্চতা কাজে লাগিয়ে বাড়তি বাউন্স আদায় করা এবং গতির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা-এই দুইয়ের সমন্বয়েই তিনি হয়ে ওঠেন আরও ভয়ংকর।
নাহিদের এই দুর্দান্ত বোলিংয়ের পেছনে বড় পুঁজি ছিল দলের ব্যাটিং। কুসাল মেন্ডিসের ঝড়ো সেঞ্চুরি আর বাবর আজমের দায়িত্বশীল ইনিংসে পেশোয়ার জালমি তোলে বিশাল সংগ্রহ। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে করাচি কিংস। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে হারাতে তারা গুটিয়ে যায় মাত্র ৮৭ রানে, ফলে জালমি পায় ১৫৯ রানের বিশাল জয়।
বল হাতে নাহিদের পাশাপাশি কার্যকর ছিলেন ইফতিখার আহমেদ, যিনি কম রান দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। শরিফুল ইসলামও শুরুতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন এবং তুলে নেন ডেভিড ওয়ার্নারের উইকেট।
ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ শিবির থেকেও এসেছে স্বীকৃতি। মঈন আলী স্পষ্টভাবেই স্বীকার করেছেন, এমন গতির বোলিং সামলানো কঠিন, বিশেষ করে যখন লেংথ এত নিখুঁত থাকে। তাঁর চোখে নাহিদ ভবিষ্যতের বড় তারকা, যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও আলো ছড়াবেন।










Discussion about this post