ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট আসরগুলোর একটি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা অবশেষে কাটতে শুরু করেছে। জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য এই লিগ শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং জীবিকার একটি বড় মাধ্যম। কিন্তু প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ও অস্থিরতার কারণে এবারের আসরটি সময়মতো আয়োজন নিয়ে দেখা দিয়েছিল গভীর সংশয়, যা ক্রিকেটারদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে।
বিসিবির অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। বিলুপ্ত পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে ঢাকার ক্রীড়া সংগঠকদের বিরোধই মূলত লিগের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিয়েছিল। তবে নতুন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি দ্রুত গুরুত্ব পায়। সভাপতি তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলে ধীরে ধীরে সমাধানের পথ উন্মুক্ত হয়।
বিসিবির সঙ্গে ঢাকার ক্লাবগুলোর বৈঠক ছিল এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেই বৈঠকে ক্লাবগুলো লিগে অংশগ্রহণে সম্মতি জানায়, যা আসরটি আয়োজনের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আলোচনায় দলবদলের সময়সূচি ও খেলা শুরুর সম্ভাব্য সময় নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মাসেই দলবদল অনুষ্ঠিত হবে এবং আগামী মাসের শুরুতেই মাঠে গড়াতে পারে প্রতিযোগিতা।
তবে এই আয়োজনের প্রভাব পড়ছে অন্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টের ওপর। ঢাকা লিগের কারণে লাল বলের বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবুও ক্রিকেটারদের দৃষ্টিকোণ থেকে ঢাকা লিগের দ্রুত আয়োজনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একই সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের আর্থিক কাঠামোতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কমিটি নারী ও পুরুষ উভয় ক্রিকেটারদের বেতন এবং ম্যাচ ফি বৃদ্ধি করেছে, যা তাদের পেশাগত নিরাপত্তা বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, যারা এটিকে দেশের ক্রিকেটের অগ্রগতির জন্য সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
নতুন ব্যবস্থায় নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ও মাসিক বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাদের আরও উৎসাহিত করবে। একইভাবে পুরুষ ক্রিকেটারদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বেতন বাড়ানো হয়েছে এবং চার দিনের ম্যাচের পারিশ্রমিকও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।










Discussion about this post