শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা, গ্যালারিতে নিঃশ্বাস আটকে রাখা দর্শক, আর ক্রিজে অবিচল এক ব্যাটার-সব উপাদানই ছিল। তবু ভাগ্য শেষ পর্যন্ত ঢাকার পক্ষে ধরা দেয়নি।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৬ রানে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক সিলেট টাইটান্স। ম্যাচজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী, যিনি একাই লড়ে গেছেন শেষ বল পর্যন্ত।
টস জিতে ঢাকা ক্যাপিটালস সিলেটকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুতেই সিলেট চাপে পড়ে যায়। ওপেনার রনি তালুকদার দ্রুত আউট হন এবং অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজও ব্যর্থ হন ইনিংস গুছিয়ে তুলতে। দলীয় রান যখন নড়বড়ে, তখন দায়িত্ব নেন সাইম আইয়ুব ও পারভেজ হোসেন ইমন।
দুজনের জুটিতে সিলেট কিছুটা স্বস্তি পায়, তবে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি কেউই। সাইম ধীরগতির ইনিংস খেলে ফিরলে অল্প সময়ের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন ইমনও।
মাঝের ওভারে ছন্দ হারালেও শেষ দিকে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন আজমতুল্লাহ ওমরজাই। ওমরজাইয়ের আগ্রাসী ব্যাটিং ঢাকার বোলারদের চাপে ফেলে দেয়। বিশেষ করে এক ওভারে ২২ রান তুলে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন তিনি। ইথান ব্রুকসের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসও সিলেটের সংগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করে।
ঢাকার ফিল্ডারদের একাধিক ক্যাচ মিস সেই কাজ আরও সহজ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৩ রানের লড়াকু পুঁজি পায় সিলেট টাইটান্স।
এই রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে ঢাকা ক্যাপিটালস। মোহাম্মদ আমিরের সুইং ও গতির সামনে টপঅর্ডার ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি। দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপ বাড়তে থাকে ঢাকার ডাগআউটে। এক পর্যায়ে ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে যায় তাদের।
ঠিক সেই সময় এক প্রান্ত আগলে দাঁড়ান শামীম হোসেন পাটোয়ারী। দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং মিলিয়ে তিনি ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন উত্তেজনা। মাত্র ৩২ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর ইনিংসের গতি আরও বাড়ান। একের পর এক চার-ছক্কায় দর্শকদের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭ রান। কঠিন সমীকরণ জেনেও হার মানেননি শামীম। তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ওভার থেকে ২০ রান তুললেও জয় থেকে ৬ রান দূরেই থামে ঢাকার ইনিংস। ৪৩ বলে অপরাজিত ৮১ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন শামীম।
এই জয়ে সিলেট টাইটান্স পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সঙ্গে সমান পয়েন্ট হলেও নেট রানরেটে পিছিয়ে আছে তারা। অন্যদিকে ঢাকার জন্য এটি ছিল জয়ের খুব কাছে গিয়েও ফিরে আসার হতাশার এক ম্যাচ, যেখানে শামীম হোসেন পাটোয়ারীর লড়াকু ইনিংস পরাজয়ের গল্পকেই আরও বেদনাদায়ক করে তুলল।










Discussion about this post