বিপিএল নিলামে দল না পাওয়ার হতাশা তখনো কাটেনি সাদমান ইসলামের। জাতীয় দলের নিয়মিত টেস্ট ওপেনার হয়েও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহ না পাওয়াটা ছিল তার জন্য অপ্রত্যাশিত। নিলামের ঠিক আগে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি আসরে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজের টি-টোয়েন্টি সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন তিনি। তবুও বিপিএলের কোনো দল তাকে দলে টানেনি। সেই হতাশা থেকেই সাদমান বলেছিলেন, টুর্নামেন্টের মাঝপথে ডাক এলেও তিনি বিপিএলে খেলবেন না।
কিন্তু বিপিএল শুরুর পর চিত্রটা পাল্টে যায়। চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকানা পরিবর্তনের পর দলটির দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির তত্ত্বাবধানে আসার পরই দলে পরিবর্তন আসে এবং স্কোয়াডে যুক্ত করা হয় সাদমান ইসলামকে। এর মাধ্যমে মাঝপথেই বিপিএলে ফেরার সুযোগ পান এই বাঁহাতি ব্যাটার।
নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে আসার ব্যাখ্যায় সাদমান বলেন, চট্টগ্রাম রয়্যালস যেহেতু বিসিবির দল, তাই সেখানে খেলতে না বলার কোনো সুযোগ ছিল না। তার ভাষায়, নাফিস ইকবাল ও হাবিবুল বাশারের ফোনেই মূলত প্রস্তাবটি আসে। বিসিবির অধীনে থাকা একটি দলে খেলাটা দায়িত্বের জায়গা থেকেই দেখেছেন তিনি।
টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত হলেও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সাদমান। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলে ব্যাটিংয়ের ভিত শক্ত থাকে। ফলে অল্প কিছুদিন অনুশীলন করে নির্দিষ্ট শটগুলো ঝালিয়ে নিলেই টি-টোয়েন্টির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। কয়েক দিনের প্রস্তুতিতেই নিজেকে কার্যকর করে তোলা যায় বলেই মনে করেন তিনি।
চট্টগ্রাম রয়্যালসে যোগ দেওয়ার পর দলের পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্ট সাদমান। অল্প সময়ের মধ্যেই সতীর্থদের সঙ্গে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। বন্ধুসুলভ পরিবেশে কাজ করতে পারায় মানিয়ে নেওয়াটা সহজ হয়েছে বলে মনে করেন এই ব্যাটার।
বিপিএলের ভেন্যু প্রসঙ্গে অবশ্য আক্ষেপ লুকাননি সাদমান। তার মতে, ঢাকা ও সিলেটের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিপিএলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দীর্ঘদিন পর বিপিএল ফিরলেও এবার চট্টগ্রামে কোনো ম্যাচ না হওয়ায় দর্শকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি চট্টগ্রামের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য হতাশার বলেই মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয় দলে এখন পর্যন্ত কেবল টেস্ট ক্রিকেটেই সুযোগ পাওয়া সাদমান ইসলাম সব ফরম্যাটেই নিজেকে দেখতে চান। ‘টেস্ট স্পেশালিস্ট’ তকমার বাইরে বেরিয়ে আসার সুযোগ হিসেবে বিপিএলকে দেখছেন তিনি। মাঝপথে পাওয়া এই সুযোগকে নিজের ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।










Discussion about this post