সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দর্শকদের জন্য রীতিমতো রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ উপহার দিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও রংপুর রাইডার্স। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় টাই হওয়া ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে, যেখানে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স সহজ জয়ে হাসে।
নির্ধারিত ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায়। দুই বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র এক রান। নুরুল হাসান ক্যাচ তুলে দিলে ইয়াসির আলীর হাতে ধরা পড়েন তিনি। নতুন ব্যাটার হিসেবে উইকেটে নামেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ বলে তাঁর ব্যাটে বল লেগেছিল ঠিকই, কিন্তু রান নিতে গিয়ে অপর প্রান্তে পৌঁছানোর আগেই মেহরব হোসেন স্টাম্প ভেঙে দিলে ম্যাচটি অবিশ্বাস্যভাবে টাই হয়ে যায়।
টাই ম্যাচের নিষ্পত্তি আসে সুপার ওভারে। এবারের বিপিএলের প্রথম সুপার ওভারে অবশ্য তেমন কোনো উত্তেজনা দেখা যায়নি। রিপন মন্ডলের করা ওভারে রংপুর রাইডার্স মাত্র ৬ রান তুলতে সক্ষম হয়। জবাবে মোস্তাফিজুর রহমানের প্রথম তিন বলেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
এর আগে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসের শুরুতেই ব্যর্থ হন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম, যিনি ৬ বলে মাত্র ২ রান করে ফিরে যান। তবে দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক শান্ত ও ফারহানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় দল। দুজন মিলে গড়েন ৯৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ৩০ বলে ৪১ রান করে রানআউটে কাটা পড়েন শান্ত। অন্যদিকে ফারহান ৩৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করে শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন।
শান্ত ও ফারহান ছাড়া রাজশাহীর আর কোনো ব্যাটার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। মুশফিকুর রহিম ও ইয়াসির আলির ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়।
১৬০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে রংপুর রাইডার্সের শুরুটা ভালো হয়নি। ওপেনার লিটন কুমার দাস ১১ বলে ১৬ রান করে আউট হন। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ডেভিড মালান ও তাওহীদ হৃদয়ের শতরানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে রংপুর। দুজনই ফিফটি তুলে নেন। অর্ধশতক করার পর ৫৩ রানে আউট হন হৃদয়। মালান শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৬৫ রানে, কাইল মেয়ার্সের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে জয়ের একদম কাছাকাছি নিয়ে যান। মেয়ার্স অপরাজিত থাকেন ১৫ রানে।
তবে শেষ বলের নাটকীয়তায় ম্যাচ টাই হলে সুপার ওভারে গিয়ে সব হিসাব উল্টে যায়। অল্প রানের লক্ষ্য সহজেই পেরিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স তুলে নেয় জয়।










Discussion about this post