টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আর বেশি দেরি নেই, তার আগেই বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নামের পাশে ‘প্রাথমিক’ তকমা থাকলেও দল নির্বাচনে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার ইঙ্গিত নেই। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্কোয়াড বদলের সুযোগ থাকলেও চোট সমস্যা ছাড়া বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছে না দল পরিচালনা পর্ষদ।
ঘোষিত স্কোয়াডে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে স্পিন বিভাগ। অ্যাডাম জ্যাম্পার নেতৃত্বে লেগ স্পিন, বাঁহাতি স্পিন ও অফ স্পিন, সব ধরনের বিকল্পই রাখা হয়েছে দলে। ম্যাথু কুনেমানের বাঁহাতি স্পিনের সঙ্গে কুপার কনোলিকে যুক্ত করা হয়েছে স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে। এ ছাড়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাথু শর্ট থাকায় প্রয়োজনে অতিরিক্ত স্পিন অপশন পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। কন্ডিশন বিবেচনায় স্পিননির্ভর কৌশলেই যে তারা এগোতে চায়, সেটিই স্পষ্ট হয়েছে এই নির্বাচনে।
তবে স্কোয়াড ঘোষণার আনন্দে ছায়া ফেলেছে চোটের শঙ্কা। প্যাট কামিন্স, জশ হেইজেলউড ও টিম ডেভিড-এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের ফিটনেস নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত। কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তে স্ক্যান ও ফিটনেস রিপোর্টের ভিত্তিতেই তাদের বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
এই তিনজনের মধ্যে আপাতত সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আছেন হেইজেলউড। চোট কাটিয়ে বোলিংয়ে ফেরার দ্বারপ্রান্তে থাকা এই পেসার গত বছর টি-টোয়েন্টিতে দারুণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। কামিন্সের ক্ষেত্রে অবশ্য অনিশ্চয়তা বেশি। দীর্ঘদিন টি-টোয়েন্টি না খেললেও অ্যাডিলেইড টেস্টে ছয় উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্য জানান দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম টিম ডেভিড। নতুন ভূমিকায় ব্যাটিং অর্ডারের ওপরে উঠে দুর্দান্ত সময় কাটালেও বিগ ব্যাশে পাওয়া হ্যামস্ট্রিংয়ের গ্রেড টু চোট তার বিশ্বকাপ প্রস্তুতিকে কঠিন করে তুলেছে। যদিও অস্ট্রেলিয়ার প্রথম দুটি ম্যাচ তুলনামূলক সহজ হওয়ায় তাকে নিয়ে সময় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের।
স্কোয়াডে বড় চমক জেভিয়ার বার্টলেটের অন্তর্ভুক্তি এবং বেন ডোয়ার্শিসের বাদ পড়া। বাঁহাতি পেসার না রেখেই বিশ্বকাপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যা নির্বাচকদের স্পষ্ট কৌশলেরই প্রতিফলন। নতুন বলে বার্টলেটের ওপর ভরসা রাখা হলেও কামিন্স ও হেইজেলউড পুরোপুরি ফিট হলে তার খেলার সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে তৃতীয় পেসার হিসেবে ন্যাথান এলিসই থাকবেন ভরসার জায়গা।
মিচেল ওয়েনের বাদ পড়া এবং কুপার কনোলির প্রত্যাবর্তনও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সীমিত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থাকলেও কনোলিকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে দেখছে অস্ট্রেলিয়া। উইকেটকিপার হিসেবে একমাত্র জশ ইংলিসকে রাখায় অ্যালেক্স কেয়ারি ও জশ ফিলিপির বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়া দল-
মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনোলি, প্যাট কামিন্স, টিম ডেভিড, ক্যামেরন গ্রিন, ন্যাথান এলিস, জশ হেইজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুনেমান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাথু শর্ট, মার্কাস স্টয়নিস ও অ্যাডাম জ্যাম্পা।










Discussion about this post