মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে সিরিজের ফয়সালার লড়াই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। আগের দুই ম্যাচের মতো আজও টস ভাগ্য হাসল তাঁর মুখে, আর সেই ধারাবাহিকতায় ব্যাট হাতে শুরু করেছে স্বাগতিকরা। কোনো দলই একাদশে পরিবর্তন আনেনি।
প্রথম দুই ম্যাচ শেষে দুই দলই সমানভাবে দাঁড়িয়ে আছে ১-১! প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছিল দাপুটে জয়, কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে রোমাঞ্চকর সমতায় গড়ানো লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সুপার ওভারে মাত্র ১ রানে হেরে যায় টাইগাররা। ফলে আজকের ম্যাচেই নির্ধারিত হবে সিরিজের ভাগ্য।
তবে সিরিজের ফলাফলের চেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে মিরপুরের উইকেট। এই কালো উইকেটে ব্যাটারদের টিকে থাকাই যেন বড় চ্যালেঞ্জ। টার্ন, অসমান বাউন্স, ধীরগতির বল—সব মিলিয়ে রান তোলাটা হয়ে গেছে দুঃসাধ্য। এখানেই ম্যাচের মোড় ঘোরাতে পারে স্পিন।
আগের ম্যাচে দেখা গেছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ৫০ ওভারই বল করিয়েছে স্পিনারদের দিয়ে। জাস্টিন গ্রিভসের মতো পেসারকে এক বলও করানোর প্রয়োজন পড়েনি। বাংলাদেশও একই পথেই হাঁটেছে-মুস্তাফিজুর রহমানের পুরো ১০ ওভার শেষ করানো হয়নি, কারণ স্পিনাররাই ছিলেন বেশি কার্যকর। দুই দলই বুঝে গেছে, এই পিচে ব্যাটিংয়ের চেয়ে বোলিংই নির্ধারণ করবে জয়-পরাজয়।
তবে বাংলাদেশ ব্যাটারদের দুর্বলতা এখনো রয়ে গেছে স্ট্রাইক রোটেশনে। দ্বিতীয় ম্যাচে ৩০০ বলের মধ্যে ৬২ শতাংশই ছিল ডট বল-একটি ভয়ঙ্কর পরিসংখ্যান। সুযোগ থাকলেও রান নেওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস ছিল না ব্যাটারদের মধ্যে।
এই কঠিন বাস্তবতায় আজ বাংলাদেশকে নতুন করে ভাবতে হবে ইনিংস গঠনের কৌশল। টপ অর্ডার যদি লড়াইয়ের মঞ্চ গড়ে দিতে পারে, তবে রিশাদ হোসেনদের মতো লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা ম্যাচের চিত্র পাল্টে দিতে পারেন। শেষ দুই ম্যাচে তাঁর ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসগুলো ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের একমাত্র আলো।
অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ওয়েস্ট ইন্ডিজও স্পিনে বাজি ধরেছে। দ্বিতীয় ম্যাচে আলিক অ্যাথানেজের সাশ্রয়ী বোলিং, শাই হোপের নেতৃত্ব, আর গুদাকেশ মোটি ও আকিল হোসেনের ধারাবাহিকতা তাদের বড় শক্তি। দ্বিতীয় ম্যাচের সুপার ওভার জয়ের পর ক্যারিবিয়ানরা এখন মানসিকভাবেও এগিয়ে।
দুই দলের একাদশ-
বাংলাদেশ: সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ব্রেন্ডন কিং, অ্যালিক অ্যাথানেজ, কেসি কার্টি, শাই হোপ (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), আকিম অগুস্তে, শেরফান রাদারফোর্ড, রস্টন চেইজ, গুদাকেশ মোটি, জাস্টিন গ্রিভস, আকিল হোসেন, খারি পিয়েরে।










Discussion about this post