সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে ম্যাচ যেন এসে দাঁড়িয়েছে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যে। পাকিস্তান এখনো লড়াইয়ে, তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হাতছাড়া করেনি বাংলাদেশও। ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সফরকারীরা দিন শেষ করেছে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে। শেষ দিনে পাকিস্তানের প্রয়োজন আরও ১৩৭ রান, আর বাংলাদেশের দরকার মাত্র তিনটি উইকেট। এমন অবস্থায় স্বস্তির সুরই শোনা গেল বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইটের কণ্ঠে।
দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে আজ টেইট স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেন, তার বিশ্বাস বাংলাদেশের বোলাররা যথেষ্ট ভালো করেছে বলেই দল এখন এগিয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘তারা (বাংলাদেশের বোলাররা) বোলিং ভালোই করেছে। প্রতিদিন তো একরকম যাবে না। তারা যথেষ্ট ভালো করেছে বলেই আমরা ভালো অবস্থানে আছি। ছেলেরা এ মুহূর্তে খুব ভালো করছে। তাদের এমন করতে দেখে খুব ভালো লাগছে, সাদা বল ও লাল বল দুই ক্ষেত্রেই।’
চতুর্থ দিনের পুরোটা সময়ই বাংলাদেশকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। বিশেষ করে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগার জুটি ধীরে ধীরে ম্যাচকে পাকিস্তানের দিকে টেনে নিচ্ছিল। উইকেট ছিল ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক, আর সেই সুবিধা কাজে লাগিয়েই পাকিস্তান দিনের বড় একটা সময় নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেটি স্বীকারও করেছেন টেইট।
বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘দারুণ দিন গেল, দুই দলই ভালো ক্রিকেট খেলেছে। উইকেট আজও ব্যাটিংয়ের জন্য দারুণ ছিল। দারুণ লড়াই হয়েছে, কিছু সময় তারা আমাদের ছাড়িয়ে গিয়েছিল।’
তবে দিনের শেষ মুহূর্তে বদলে যায় দৃশ্যপট। তাইজুল ইসলামের স্পিনে ভাঙে রিজওয়ান-সালমান জুটি। এরপর দ্রুত আরেকটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ আবারও ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করে। শেষ ১০ বলের মধ্যে দুটি উইকেট পাওয়াকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন টেইট। তিনি বলেন, ‘শেষদিকে দুটি উইকেট পাওয়ায় আমরা বেশ খুশি হয়েই ড্রেসিংরুমে ফিরেছি।’
সিলেটের গরম আবহাওয়া এবং ব্যাটিংবান্ধব উইকেট বোলারদের জন্য কাজটা সহজ ছিল না বলেও জানিয়েছেন এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ। তার মতে, পাকিস্তানের ব্যাটাররাও কৃতিত্ব পাওয়ার দাবিদার। সংবাদ সম্মেলনে টেইট বলেন, ‘আমার মনে হয় ক্রিকেটের জন্য দিনটা বেশ ভালো কেটেছে, কারণ দুই দলই দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। তারা খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। সত্যি বলতে আজকের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ উপযোগী ছিল। তবে আমাদের ছেলেরা লড়াইয়ে ছিল, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল। একটা সময় তারা আমাদের ওপর চেপে বসেছিল, কিন্তু দিনের শেষের দিকে ওই দুটি উইকেট তুলে নেওয়ার পর ড্রেসিংরুমে ফেরার সময় সবাই বেশ খুশি ছিল।’
দিনের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত ছিল একটি রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া হওয়া। তখন বাংলাদেশ শিবিরে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল কি না-এমন প্রশ্নের জবাবেও শান্ত ছিলেন টেইট। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে ওই রান আউটের সুযোগটা যখন হাতছাড়া হলো, আমাদের মনে হয়েছিল সেটাই হয়তো কাঙ্ক্ষিত ব্রেকথ্রু হতে পারত। এরপর তাইজুলের মাধ্যমে সেই সাফল্য আসে। ডাগআউটে রোমাঞ্চ ছিল, তবে দুশ্চিন্তা ছিল কি না আমি নিশ্চিত না। ব্যক্তিগতভাবে আমি একদমই চিন্তিত ছিলাম না।’
শেষ দিনের আগে টেইটের কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। যদিও তিনি জানেন, ম্যাচ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। কারণ উইকেটে আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, আর সিলেটের উইকেটও এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক। তবু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশই জিতবে বলে বিশ্বাস তার।
টেইট বলেন, ‘আজকের কন্ডিশনটা বেশ কঠিন ছিল, মনে হয়েছে এটাই সবচেয়ে গরম দিন। উইকেটও ব্যাটিংয়ের জন্য সত্যিই ভালো হয়ে উঠেছিল। তবে এগুলো কোনো অজুহাত নয়। দিনশেষে আমরা এখন ভালো অবস্থানে আছি, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শেষ দিনের কথা বললে, আমার মনে হয় আমরা তাদের অলআউট করে দেব। আশা করি এটাই হবে।’









Discussion about this post