দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে সাকিব আল হাসান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে খেলেছিলেন তিনি। এরপর আর জাতীয় দলে ফেরা হয়নি এই অলরাউন্ডারের। পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে ফেরার সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও সেটি বাস্তবে রূপ পায়নি। নিউজিল্যান্ড সিরিজের দলেও নেই তিনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, সাকিব কি এখনও দলের পরিকল্পনায় আছেন?
এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানালেন, সাকিবের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে। তবে সেই আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে প্রস্তুতির বিষয়টি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে দুই-একবার কথা হয়েছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম সে কি প্রস্তুত এবং এখন কী করছে? সে যেখানে আছে, সেখানে ক্রিকেট নিয়মিত হয় না। অনুশীলনের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফিটনেস নিয়ে কাজ করা গেলেও ক্রিকেট অতটা নিয়মিত হয় না। যদিও সে ক্রিকেট খেলছে। আমি মূলত এসব বিষয় নিয়েই তার সঙ্গে বেশি কথা বলেছি।’
ঘরোয়া ক্রিকেটেও দেখা যায়নি সাকিবকে। বিপিএল কিংবা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ-কোনোটিতেই খেলতে পারেননি তিনি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আইনি জটিলতা, যা তার দেশে ফেরা অনিশ্চিত করে তুলেছে। তবু নির্বাচকদের পরিকল্পনা থেকে পুরোপুরি ছিটকে যাননি সাকিব। বরং দীর্ঘমেয়াদে তাকে নিয়েই ভাবতে চায় দল ব্যবস্থাপনা।
সুমনের কথায়, ‘তার থাকা না থাকার ওপর নির্ভর করছে। তবে আমরা পরিষ্কার করেছি যে যদি তাকে চাই, অবশ্যই লম্বা সময়ের জন্য চাইব। যেহেতু বিশ্বকাপের আগে আমাদের সামনে লম্বা সময় আছে, তাই আমরা বিশ্বকাপ নিয়েই পরিকল্পনা করব। আলোচনাটা মূলত এটাই ছিল যে সে কতটুকু প্রস্তুত। কারণ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রস্তুতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনেক কিছু দাবি করে। তাই খেলার আগে নিজের প্রস্তুতিটা খুব দরকার।’
একই সময় আলোচনায় এসেছে সৌম্য সরকারের নামও। পাকিস্তান সিরিজে দলে থাকলেও একটি ম্যাচেও একাদশে জায়গা হয়নি তাঁর। অথচ তার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে করেছিলেন ১৪০ রান, যার মধ্যে একটি ৯১ রানের ইনিংস ছিল। এরপরও সুযোগ না পাওয়ায় আলোচনা তৈরি হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়াও জানান তার স্ত্রী।
তবে নির্বাচকদের চোখে সৌম্য এখনও সম্ভাবনাময়। সাম্প্রতিক অনুশীলনে তার উন্নতিতে মুগ্ধ হয়েছেন প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, ‘আমি দুই দিন সৌম্যর অনুশীলন দেখেছি। একটা জিনিস আমাকে খুব মুগ্ধ করেছে যে সে অফ-স্পিন ভালোভাবে সামলাচ্ছে। স্পিনের ক্ষেত্রে তার আগে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। কিন্তু এখন অনেক উন্নতি করেছে। সে আমাদের দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।’
সৌম্যকে নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি ভাবনায় থাকতে চান নির্বাচকরা। একই সঙ্গে দলে থাকা খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও জোর দিয়েছেন সুমন।
সাইফ হাসানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে প্রচুর খেলা আছে এবং ও সুযোগ পাবে। ওর মতো প্লেয়ার বেঞ্চে বসে থাকা মানে আমাদের টিম অনেক শক্তিশালী। তবে আমি চাই না কেউ এসে দুই-তিনটা ম্যাচে সুযোগ পেয়েই আবার বাদ পড়ে যাক। আমি যাকে দেখব লম্বা সময়ের জন্য দেখব। সাইফ হাসান যেহেতু খেলেছে, আমি জানি না টিম ম্যানেজমেন্ট কী ভাবছে, তবে আমার মনে হয় তার আরেকটা সুযোগ পাওয়া উচিত। আর সৌম্য যখন ফিরে আসবে, তখন সেও লম্বা সময়ের জন্যই খেলবে।’
নিউজিল্যান্ড সিরিজের দল ঘোষণায় আরেকটি আলোচ্য বিষয় ছিল নাসুম আহমেদের অনুপস্থিতি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ভালো করলেও এবার প্রথম দুই ওয়ানডেতে জায়গা হয়নি তার। নির্বাচক হাসিবুল হোসেন শান্ত জানিয়েছেন, দলগত কম্বিনেশন ও কন্ডিশন বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৭ এপ্রিল মিরপুরে শুরু হবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ। একই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচ ২০ এপ্রিল, আর তৃতীয়টি ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে। এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল।










Discussion about this post