বাংলাদেশের কাছে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই হওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেটে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টে ৭৮ রানের পরাজয়ের পর দলজুড়ে হতাশা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সাবেক ক্রিকেটার রমিজ রাজা, বাসিত আলী ও কামরান আকমালদের সমালোচনার পাশাপাশি এবার সরাসরি ক্রিকেটারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন পাকিস্তান টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ।
টেলিকম এশিয়া স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলেট টেস্টে হারের পর অনুষ্ঠিত দলীয় বৈঠকে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সরফরাজ। বৈঠকে দলের ম্যানেজার নাভিদ চিমা ও সাপোর্ট স্টাফের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সরফরাজ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ক্রিকেটারদের দলের জন্য খেলতে হবে, নিজেদের ব্যক্তিগত অর্জনের জন্য নয়।
মূলত দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের নিয়েই বেশি ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের প্রধান কোচ। তার মতে, ব্যক্তিগতভাবে কিছু ব্যাটসম্যান ভালো রান করলেও তা দলের সাফল্যে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। সিরিজে মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৮১ এবং সালমান আলী আগা ১৭৬ রান করলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব নিতে পারেননি বলে মনে করছেন তিনি। একই সঙ্গে বাবর আজম এক ম্যাচে ১১৫ রান করলেও অধিনায়ক শান মাসুদ চার ইনিংসে করেছেন মাত্র ১০৩ রান।
সরফরাজের ভাষ্য অনুযায়ী, দলের অনেক ক্রিকেটার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। তার মতে, শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, সেই পারফরম্যান্স দলের কাজে লাগানোই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, সিনিয়র ক্রিকেটাররা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং অন্য দলগুলোর তুলনায় পাকিস্তান কোথায় পিছিয়ে যাচ্ছে সেটিও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন অধিনায়ক শান মাসুদ। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সিলেট টেস্টে হারের পর দলের অন্যান্য ক্রিকেটারদের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দেশে ফেরার সময়ও সতীর্থদের সঙ্গে খুব কম কথা বলেছেন তিনি। বরং পরিবারের সঙ্গেই বেশি সময় কাটিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা চার টেস্টে হারের পর তার নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ইতোমধ্যে দাবি করছে, নতুন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে সালমান আলী আগার নাম বিবেচনায় রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিজয়ী অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। পরে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে তাকে পাকিস্তান টেস্ট দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে কোচ হিসেবে তাঁর শুরুটা মোটেও সুখকর হয়নি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ হারের পর দল পুনর্গঠন ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা এখন পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ সিরিজের প্রায় দুই মাস পর আবার টেস্ট ক্রিকেটে ফিরবে পাকিস্তান। জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে তারা। বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিং-দুই জায়গাতেই তলানির দিকে অবস্থান করছে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে পাকিস্তানের সফলতার হার ৮.৩৩ শতাংশ, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪.১৭ শতাংশ। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান অষ্টম স্থানে, তাদের রেটিং পয়েন্ট ৭৫। নবম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট ৬৮।









Discussion about this post