তাসকিন আহমেদের পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছিল তাকে। সুযোগটা ছিল হঠাৎই, কিন্তু সেটিকে মনে রাখার মতো করে রাঙালেন তাওহিদ হৃদয়। জাফনা কিংসের হয়ে প্রথম ম্যাচেই শেষ দিকে ঝড় তুলে দলের সংগ্রহকে নিয়ে গেলেন দুইশর কাছাকাছি। পরে সেই রান পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে বল হাতে নিখুঁত ভূমিকা রাখলেন সাকিব আল হাসান। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে দুই বাংলাদেশির পারফরম্যান্সে ক্যান্ডি রয়্যালসকে ৯৩ রানে উড়িয়ে দিয়েছে জাফনা কিংস।
ডাম্বুলায় টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় জাফনা। শুরুটা এমন ছিল যে, তাওহিদ হৃদয়কে দীর্ঘ সময় ডাগআউটে বসেই অপেক্ষা করতে হয়েছে। ওপেনার কামিল মিশারা ও আভিস্কা ফার্নান্দো শুরু থেকেই ক্যান্ডির বোলারদের ওপর চড়াও হন। দুজনের ১২৯ রানের উদ্বোধনী জুটিই ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়। ৩৬ বলে ৬৬ রান করে আভিস্কা ফিরলেও অন্য প্রান্তে ৭৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মিশারা।
এমন শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ইনিংসকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার দায়িত্বটা ছিল হৃদয়ের। শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও শেষদিকে সেটিই হয়ে ওঠে তার শক্তি। শাহীন আফ্রিদির ওভারে বাউন্ডারির দেখা পাওয়ার পর যেন খুলে যায় হাত। ইনিংসের শেষ ওভারে নুয়ান থুসারাকে লক্ষ্য বানিয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। প্রথম বলে চার, এরপর দ্রুত রান নেওয়া, আর শেষ বলে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা-সব মিলিয়ে ফিনিশারের ভূমিকায় ছিলেন দুর্দান্ত। ২১ বলে অপরাজিত ৩৫ রানের ইনিংসটি হয়তো বড় নয়, কিন্তু ম্যাচের প্রেক্ষাপটে ছিল দারুণ কার্যকর।
জাফনার ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে ক্যান্ডি রয়্যালস। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে তারা। এই সময়ে বল হাতে নিজের অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন সাকিব আল হাসান। নতুন ব্যাটারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে একের পর এক ডট বল করে চাপ বাড়িয়ে দেন তিনি।
সাকিবের প্রথম দুই স্পেলেই ক্যান্ডির রান তোলার গতি থেমে যায়। পরে তৃতীয় স্পেলে এসে মঈন আলীকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তিন ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে একটি উইকেট-পরিসংখ্যান হয়তো খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তার এই স্পেল ছিল গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত ১০৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় ক্যান্ডি।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার ছিলেন দুই ভিন্ন চরিত্রে। হৃদয় ছিলেন ইনিংসের শেষ অধ্যায়ের নায়ক, আর সাকিব ছিলেন প্রতিপক্ষের আশা নিভিয়ে দেওয়া নিয়ন্ত্রিত বোলার। একজন ব্যাট হাতে রান বাড়িয়েছেন, অন্যজন বল হাতে সেই রানকে নিরাপদ করে তুলেছেন।
পাঁচ ম্যাচে এটি জাফনা কিংসের তৃতীয় জয়। তবে বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য বড় খবর হলো, জাতীয় দলের বাইরে থেকেও তাওহিদ হৃদয় ও সাকিব আল হাসান নিজেদের ছন্দের ইঙ্গিত দিয়েছেন।










Discussion about this post