মাঠে গড়ানো নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা, সেই ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ এখন নতুন করে আলোচনায়-আয়োজনের মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে। বোর্ডে পরিবর্তনের পর ক্লাব ক্রিকেটে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে এবার লিগ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। লক্ষ্য শুধু লিগ চালু করা নয়, বরং সেটিকে আরও আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।
দেশের ক্রিকেট কাঠামোয় এই লিগের গুরুত্ব অনেক পুরোনো। একসময় খেলোয়াড়দের নিজেদের উদ্যোগে পরিচালিত ক্লাব ক্রিকেটই আজকের পেশাদার কাঠামোর ভিত্তি তৈরি করেছে। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে লিগকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু এই উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। অনেক দেরি হয়ে গেছে তারপরও আলহামদুলিল্লাহ সব শীর্ষস্থানীয় ক্লাব ডিপিএল খেলতে রাজি হয়েছে। তারা বেশ উৎফুল্ল। আশা করছি ২ মে থেকে শুরু করা যাবে। সে ব্যাপারে সবাই একমত পোষণ করেছে।’
ক্লাবগুলোর দাবিদাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও, মূল জোর দেওয়া হচ্ছে মাঠের আয়োজনের ওপর। আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে লিগের মান বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘তারা কিছু দাবিদাওয়া জানিয়েছে, বোর্ড সভাপতি জানিয়েছেন পরবর্তীতে জানানো হবে। প্রিমিয়ার লিগ খুব আকর্ষণীয় হবে। এই লিগ দিয়েই আজ উত্থান। এই ক্লাবগুলো একসময় খেলোয়াড়রা নিজেদের টাকায় খেলা পরিচালনা করত। তারাই অফিসিয়াল, তারাই খেলোয়াড়। এমন করতে করতেই আজ বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে শক্তিশালী দল। তাই চাই এই খেলাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ যেভাবে আয়োজন করি তার আদলেই আয়োজন করতে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
ভেন্যু সংকট কাটাতে এবার কিছুটা ভিন্ন কৌশল নিয়েছে বোর্ড। একই দিনে একাধিক ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনার সঙ্গে মিল রেখে আটটি ভেন্যু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মিরপুর, পিকেএসপি, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি কিংবা ইউল্যাব মাঠ-সব মিলিয়ে বিস্তৃত পরিসরে লিগ আয়োজনের চেষ্টা চলছে।
তবে বিকেএসপিকে ঘিরে পুরোনো কিছু প্রশ্ন থেকেই গেছে। যাতায়াতের ঝক্কি এবং সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতা নিয়ে ক্রিকেটারদের অভিযোগ থাকলেও, বাস্তবতা বিবেচনায় ভেন্যুটি বাদ দেওয়া হচ্ছে না। বরং সেখানে সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য খাবারের ব্যবস্থা এবং হোস্টেলে থাকার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘ভেন্যু থাকলেও বিকেএসপি আমাদের দরকার। বিকেএসপিতে হোস্টেল আছে। ক্লাবগুলো প্রস্তাব দিয়েছে সেখানে খেলোয়াড়দের রাখতে পারলে ভালো হবে। বোর্ড এখন লাঞ্চের ব্যবস্থা করবে। সব ক্লাব খুব খুশি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিকেএসপির হোস্টেল যদি নিতে পারি, খেলোয়াড়রা আগের দিন গিয়ে থাকতে পারে, তাহলে আর কোনো সমস্যা নেই। ২০০১ সালের পর আমরা বিকেএসপির হোস্টেল নিয়েছিলাম, সেখানে খেলোয়াড়রা রাত্রিযাপন করেছে এবং সকালে ভালোভাবে খেলে ফিরে এসেছে। সেই ব্যবস্থা করতে পারলে উত্তম হবে।’
এবারের আসরে সময় সংকটের কারণে সুপার লিগ রাখা হচ্ছে না। ১২টি দল একে অপরের মুখোমুখি হয়ে লিগ পর্বেই নির্ধারণ করবে শিরোপার ভাগ্য। তবে প্রতিটি ম্যাচের জন্য রিজার্ভ ডে রাখার সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে, আয়োজনে শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।










Discussion about this post