ভারত-পাকিস্তান মানেই চাপা উত্তেজনা, আর টি-টোয়েন্টি হলে তো সেই উত্তেজনা পৌঁছায় চূড়ায়। তবে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে উত্তেজনার জায়গা খুব একটা ছিল না- কারণ ভারতের জয়ে ছিল স্পষ্ট দাপট। আর সেই দাপটের মূল কান্ডারি অভিষেক শর্মা।
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে একতরফা লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সুপার ফোর অভিযান শুরু করলো ভারত। ১৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৮.৫ ওভারে ম্যাচ শেষ করে ফেলে তারা। আর এই জয়ের মূল নায়ক ছিলেন অভিষেক শর্মা, যিনি নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচেই ঝড় তুলে খেলেছেন ৩৯ বলে ৭৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস।
গত রাতে শুরুটা হয়েছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিতভাবে। পাকিস্তানের পেস তারকা শাহিন শাহ আফ্রিদি, যিনি এর আগে ৭০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কখনও নিজের প্রথম বলেই ছক্কা হজম করেননি, তাকেই ওভার শুরুর প্রথম বলেই আছড়ে ফেললেন অভিষেক। এ যেন এক প্রতীকী ঘোষণাই ছিল- ভারত আজ ব্যাট হাতে একেবারে আলাদা কিছু করতে এসেছে।
ভারতের ইনিংসের সূচনায় শুভমান গিল এবং অভিষেক শর্মা একসঙ্গে মিলে যে তাণ্ডব চালিয়েছেন, তাতে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ যেন কিছুটা পথ হারিয়ে ফেলে। মাত্র ৮.৪ ওভারে দলীয় শতক ছুঁয়ে ফেলে তারা। পাকিস্তান শুরুতে যেভাবে ব্যাটিং করেছিল, সেই তুলনায় ভারতের জবাব আরও আক্রমণাত্মক, আরও নিয়ন্ত্রিত। যদিও একপর্যায়ে রউফ-আবরারদের হাত ধরে পাকিস্তান কিছুটা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে, কিন্তু ভারতের ব্যাটারদের ধৈর্য আর মারমুখী ভঙ্গি তাতে ভাটা পড়ে না।
শুভমান গিল ফাহিম আশরাফের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৪৭ রানে। এরপর সূর্যকুমার যাদব মাত্র এক বলেই সাজঘরে ফেরায় খানিকটা চাপ তৈরি হয় ভারতীয় ডাগআউটে। ততক্ষণে অভিষেক পৌঁছে গেছেন নিজের হাফসেঞ্চুরিতে, সেটিও মাত্র ২৪ বলে-যা পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের পক্ষে দ্রুততম। যুবরাজ সিংয়ের ২৯ বলের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন তিনি অনায়াসেই।
অভিষেকের ইনিংস থেমেছে ৭৪ রানে, মাত্র ৩৯ বলে, যার মধ্যে ছিল ৬টি চার ও ৫টি বিশাল ছক্কা। যদিও তিনি ফেরার পরপরই রউফের শিকার হন সঞ্জু স্যামসন, কিন্তু তিলক বর্মা ও হার্দিক পান্ডিয়া ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচ শেষ করেন। তিলক মাত্র ১৯ বলে ৩০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।
পাকিস্তানের পক্ষে রউফ ২ উইকেট নিলেও বাকি বোলাররা বেশ খরচ করে ফেলেছেন রান। আবরার ও ফাহিম একটি করে উইকেট পেলেও তাতে ম্যাচের রঙ বদলায়নি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান প্রথম ১০ ওভারে ৯১ রান তুলে জোরালো শুরু করেছিল। শাহিবজাদা ফারহান খেলেছেন ৫৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস, সঙ্গ পেয়েছেন সাইম আইয়ুব ও ফাহিম আশরাফ। কিন্তু মিডল অর্ডারে কেউই ইনিংস ধরে রাখতে পারেননি। ভারতের শিভাম দুবে দুটি উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, পান্ডিয়া ও কুলদীপ একটি করে উইকেট নিয়ে সমর্থন দেন।
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ১৭১ রানের লক্ষ্য ভারতের কাছে যথেষ্ট হয়নি। ১৮.৫ ওভারেই ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে নেয় ভারত। আর সেই জয়ের নায়ক একটাই নাম- অভিষেক শর্মা। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচও হয়েছেন তিনিই।
দুবাইয়ের ব্যাটিংবান্ধব উইকেট, পাকিস্তানের আশাব্যঞ্জক শুরু আর ভারতের দাপুটে জবাব- সব মিলিয়ে ম্যাচটা যেন একরকম ঘোষণা দিয়ে দিল, এই মুহূর্তে ভারতই এশিয়ার সেরা টি-টোয়েন্টি দল।










Discussion about this post