বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে আসন্ন নির্বাচনের চিত্র। তিন ক্যাটাগরিতে পরিচালক পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মোট ৩৩ জন প্রার্থী। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্তভাবে বৈধ ঘোষণা করেছে ৩২ জনের মনোনয়ন। একমাত্র বাদ পড়েছেন গোলাপগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়া জসিম উদ্দীন খান খসরু। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে তার মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হবেন ১০ জন পরিচালক। এই ক্যাটাগরিতে শুরুতে ১৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও যাচাই শেষে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ১৩ জন। তবে সব জায়গায় ভোটযুদ্ধ হচ্ছে না। ইতোমধ্যেই কয়েকটি বিভাগে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন।
ক্লাব ক্যাটাগরিতে ঐতিহ্যবাহী আবাহনীর প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করছেন ফাহিম সিনহা। বিসিবির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল অংশ নিচ্ছেন ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধি হয়ে। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের লুৎফর রহমান, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মির্জা ইয়াসির আব্বাস এবং এক্সিউম ক্রিকেটার্স থেকে ইসরাফিল খসরু।
এ ছাড়া নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন ফেয়ার ফাইটার্সের সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্রের প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম বাবু, মোহামেডানের মাসুদুজ্জামান, শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের আসিফ রব্বানী এবং উত্তরা ক্রিকেট ক্লাবের ফায়াজুর রহমান।
বসুন্ধরা রাইডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করছেন ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক। ঢাকা স্পার্টান্স থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিসিবির সাবেক পরিচালক আমজাদ হোসেন। একই ক্যাটাগরিতে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, ঢাকা মেরিনারের শানিয়ান তানিম, তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমির সৈয়দ বোরহানুল হোসেন, পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাবের সাকিফ আহমেদ সালাম, কাঁঠালবাগান গ্রীন ক্রিসেন্টের মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব.) এবং ওল্ড ঢাকা ক্রিকেটার্সের মাহমুদ উর রহমানও পরিচালক পদে লড়ছেন।
ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে সাঈদ বিন জামান এবং জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে এসএম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচিত হচ্ছেন। একইভাবে রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে মির্জা ফয়সাল আমীন, রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলা থেকে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও পরিচালক পদ নিশ্চিত করেছেন।
তবে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে দেখা যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। চট্টগ্রামে দুইটি পদের বিপরীতে লড়বেন তিনজন প্রার্থী-বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, মঈন উদ্দীন চৌধুরী এবং শরীফুল ইসলাম। একই ধরনের ত্রিমুখী লড়াই হবে খুলনা বিভাগেও। সেখানে দুইটি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম এবং আব্দুছ সালাম।
বরিশাল বিভাগে নির্বাচন আরও আলাদা মাত্রা পেয়েছে। সেখানে মুখোমুখি হচ্ছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দল ফরচুন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমান এবং মুনতাসির আলম চৌধুরী। ফলে এই অঞ্চলের নির্বাচন নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে ক্রিকেট অঙ্গনে।
ক্যাটাগরি-৩ থেকে পরিচালক হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন মাত্র একজন প্রার্থী। সিরাজউদ্দিন মোঃ আলমগীর একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনিও বিনা ভোটেই পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে ক্লাব ক্যাটাগরির নির্বাচন। ১২টি পদের বিপরীতে এই ক্যাটাগরিতে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ১৮ জন। ফলে বিসিবির এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হওয়ার আভাস মিলছে এখানেই। দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশও হয়ে উঠেছে বেশ জটিল।









Discussion about this post