বাংলাদেশে হাম ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা নিয়ে অভিভাবক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সংক্রামক রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারা এগিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রাও জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটার হাম প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে কথা বলেন। সেখানে তানজিম হাসান সাকিব বলেন, ‘আসসালামুআলাইকমু। আজকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের জন্য জীবনঘাতী হতে পারে। প্রতিরোধ চিকিৎসার চেয়ে উত্তম। তাই আসুন আমরা একসঙ্গে হাম প্রতিরোধ করি, হামমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি।’
একই বার্তায় শরীফুল ইসলাম টিকাদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আজ আমাদের এই আলাপটা ২২ গজের বাইরের। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ এক ভয়াবহ ব্যাধির মোকাবেলা করছে-হাম। দেরি না করে আজই আপনার ৬ মাস থেকে ৫ বছরের সন্তানকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা হাসপাতালে হামের টিকা দিন।’
রিশাদ হোসেনও সংক্ষিপ্ত বার্তায় টিকার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘একটি টিকা আপনার শিশুকে বড় ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।’
এদিকে বাঁহাতি ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘মাঠে নামার আগে আমরা যেমন প্যাড, হেলমেট পরে সুরক্ষা নিশ্চিত করি, তেমনি জীবনের প্রতিটি লড়াইয়েও সুরক্ষা প্রয়োজন। আমরা সবাই মিলে এই হাম মোকাবেলা করতে পারি। একটু সচেতন হলেই হাম মোকাবেলা করা সম্ভব।’
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৮ জেলায় হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ২৫৯ জনেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিস্থিতিটিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বর্তমানে দেশে মোট হাম রোগীর সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।









Discussion about this post