বিপিএলের এবারের আসরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যেন নতুন করে নিজের গুরুত্বটা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। নিলামের প্রথম ধাপে অবিক্রিত থাকা এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে শেষ দিকে দলে নেয় রংপুর রাইডার্স। মাঠে নামার পর সেই সিদ্ধান্তের পূর্ণ প্রতিদান দিচ্ছেন তিনি। চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করা, ম্যাচের শেষটা ঠান্ডা মাথায় সামলানো, সব মিলিয়ে রংপুরের জয়ের গল্পে মাহমুদউল্লাহ এখন অবিচ্ছেদ্য অংশ।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে সোমবার ১৯ বলে ৩০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ৫ উইকেটের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। এর আগে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ১৬ বলে ৩৪ এবং ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৪১ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ। টানা তিন ম্যাচে দলের জয়ে বড় অবদান রেখে রংপুর শিবিরে আস্থার নাম হয়ে উঠেছেন এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহর বর্তমান ব্যাটিং ছন্দ নিয়ে রংপুরের সহকারী কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, ‘মাহমুদউল্লাহ এখন যে ব্যাটিং করছে, ওর গত ৩-৪ বছরের মধ্যে সেরা। ওর ক্যারিয়ারের সেরা সময় ছিল হাথুরুসিংহের সময়, ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত। এখনো অসাধারণ সময় কাটাচ্ছে। আমাদের সৌভাগ্য তাকে পাওয়া।’
নিলামে মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে তাদের ভাবনা শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল বলে জানান আশরাফুল। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন নিলামে বসেছিলাম, একজন ফিনিশার প্রয়োজন ছিল। মাহমুদউল্লাহর অভিষেক ২০০৭ সালে। তার পর থেকে আমরা সবাই জানি, এই ভূমিকাটা সে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমরা জানতাম যে, এই পজিশনে একজনকে দরকার ও মাহমুদউল্লাহর চেয়ে ভালো কেউ নেই।’
অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে মাহমুদউল্লাহর মানসিক শক্তি ও ম্যাচ সেন্সকেও বড় সম্পদ মনে করেন আশরাফুল। তার ভাষায়, ‘মাহমুদউল্লাহ তো আমাদের কিংবদন্তি ক্রিকেটার। বিশ্ব ক্রিকেটে সব মিলিয়ে যদি দেখেন, যারাই কিংবদন্তি ক্রিকেটার, বিশেষ করে যারা ব্যাটার, তাদের অল্প ব্যাটিং করলেই হয়। তারা মস্তিষ্কের কাজটাই বেশি করেন।’
ফিটনেস ও প্রস্তুতির জায়গায় মাহমুদউল্লাহর পরিবর্তনও চোখে পড়ছে বলে জানান এই সাবেক ব্যাটিং তারকা। আশরাফুল বলেন, ‘সে (মাহমুদউল্লাহ) এখন প্রচুর ফিটনেসের কাজ করে। এটা আসলে মূল ব্যাপার হওয়া উচিত। যারা ভালো ব্যাটার, তাদের বেশি বোলিং করা লাগে না, আমি মনে করি। কিন্তু সে প্রচুর ট্রেনিং করে এবং যে টুর্নামেন্ট খেলবে, সেটার জন্য ভালোমতো প্রস্তুতি নেয়। এখন নিয়মিত ফিটনেস নিয়ে কাজ করে, জিম করে এবং মস্তিষ্ক দিয়ে কাজ করে।’
রংপুর রাইডার্সের সাফল্যে মাহমুদউল্লাহর পাশাপাশি বড় অবদান রাখছেন মুস্তাফিজুর রহমান। সরাসরি চুক্তিতে দলে নেওয়া এই বাঁহাতি পেসার ডেথ ওভারে কার্যকর বোলিং করে প্রতিটি ম্যাচেই দলের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। মুস্তাফিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘অবশ্যই, বিশেষ করে শেষ ম্যাচে ঢাকার সঙ্গে অসাধারণ জয়। মুস্তাফিজ যে শেষ ২ ওভার বল করেছে (৬ রান দিয়েছে)। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এই ফরম্যাটের জন্য, যেকোনো দলের জন্য সে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা খুব সৌভাগ্যবান যে মুস্তাফিজকে ডিরেক্ট সাইনিং করতে পেরেছি। তাকে যে কারণে নিয়েছি, সে পারফরম্যান্সটা পাচ্ছি তার কাছ থেকে।’
আইপিএল থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি মুস্তাফিজের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি বলেও জানান আশরাফুল। তিনি বলেন, ‘না ও একদমই চিলমুডে আছে। এগুলো নিয়ে একদমই চিন্তিত না। এখন রংপুর রাইডার্স নিয়ে মনোযোগী সে, পরে যা আসবে সেটা নিয়ে।’
ফিনিশার হিসেবে মাহমুদউল্লাহর গুরুত্ব আবারও তুলে ধরে আশরাফুল বলেন, ‘নিলামে যখন দল করেছিলাম, আমাদের ফিনিশার দরকার ছিল। আমরা সবাই জানি বাংলাদেশ দলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২০০৭ সাল থেকে এই রোলে কত ম্যাচ ফিনিশ করেছিল, এই পজিশনে প্লেয়ার দরকার। মাহমুদউল্লাহর চেয়ে বেটার কেউ আর নাই। প্রথম ম্যাচ আনলাকি, ১ বলের জন্য নেমেছিলেন। এখন গত ৩-৪ বছরের মধ্যে ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা। যদিও ২০১৪-১৮ পর্যন্ত হাথুরুর অধীনে ওর ক্যারিয়ারের সেরা সময় ছিল আমি মনে করি, গড় প্রায় ৫০। এখনও অসাধারণ সময় কাটাচ্ছে। আমরা মাহমুদউল্লাহকে পেয়ে ভাগ্যবান, মুস্তাফিজের মতো।’
অনুশীলন ও প্রস্তুতির প্রসঙ্গে মাহমুদউল্লাহর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে আশরাফুল বলেন, ‘দেখেন যারা লিজেন্ড, মাহমুদউল্লাহ আমাদের একজন লিজেন্ড, দেখবেন যারা বিশেষ ব্যাটার, তাদের অল্প ব্যাট করলেই হয়। তারা ব্রেইনের কাজ বেশি করে। সে এখন ফিটনেসের কাজ বেশি করে, এটাই দরকার। ভালো ব্যাটারদের বেশি প্র্যাকটিস লাগে না। তবে সে অনেক ট্রেনিং করে, মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ ওরা অনেক ট্রেনিং করে। যখন যে টুর্নামেন্টে খেলবে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়, ফিটনেস, জিম, ব্রেইন নিয়ে কাজ করে থাকে।’










Discussion about this post