তিন দিন পেরিয়ে গেলেও আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে আলোচনা থামেনি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে দেশ-বিদেশের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি সমর্থকদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সামনে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য—মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা ছাড়াই।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসিসিআইয়ের সদস্যদের মধ্যে মুস্তাফিজ ইস্যুতে কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গেও এ বিষয়ে কোনো মতবিনিময় করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমটির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সিদ্ধান্তটি এসেছে বোর্ডের একেবারে শীর্ষ পর্যায় থেকে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। কোনোরকম আলাপ-আলোচনা করা হয়নি। এমনকি আমাদের কাছ থেকে পরামর্শটুকু নেওয়া হয়নি।’
আইপিএলে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত মুখ মুস্তাফিজুর রহমান। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, দিল্লি ক্যাপিটালস, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস ও চেন্নাই সুপার কিংস-এই পাঁচ ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছেন তিনি। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৬০ ম্যাচে ৮.১৩ ইকোনমিতে তার উইকেট সংখ্যা ৬৫। ২০২৪ মৌসুমে চেন্নাই সুপার কিংস তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টও দিয়েছিল। এমনকি গত আসরে জেক ফ্রেজার ম্যাগার্ক না খেলায় মাঝপথেই মুস্তাফিজকে দলে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস।
এবারের আইপিএল নিলামে আবুধাবিতে ১৬ ডিসেম্বর রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে আইপিএলে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া খেলোয়াড়ও হন তিনি। চেন্নাই সুপার কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে কাড়াকাড়ির পর কলকাতার ঘরেই যান এই বাঁহাতি পেসার। বিসিসিআইয়ের অনুরোধেই তাকে আইপিএলে খেলার ছাড়পত্র বা এনওসি দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
তবে ৩ জানুয়ারি বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, মুস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ বোর্ডের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছে। তার কথায়, ‘সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে বিসিসিআই কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজিকে তাদের দলে থাকা বাংলাদেশের খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তারা যদি খেলোয়াড় বদলাতে চায়, বিসিসিআই সেই অনুমতিও দেবে।’ নির্দেশ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স।
এই সিদ্ধান্তের পর কলকাতা নাইট রাইডার্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পেজে ফলোয়ার কমতে শুরু করে, পাশাপাশি পোস্টগুলোতে অ্যাংরি ও হাহা রিঅ্যাকশন এবং সমালোচনামূলক মন্তব্য বাড়তে থাকে।
এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারত থেকে সরানোর জন্য আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আইসিসি নতুন সূচি তৈরির কাজ করছে। একই সঙ্গে মুস্তাফিজ ইস্যুর জেরে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে বিসিসিআই বোর্ডসভা করেছে কি না বা আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য করেননি বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও এর প্রভাব পড়ছে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, উদ্বোধনী দিন কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা ছিল বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোও কলকাতা ও মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা। তবে নিরাপত্তা শঙ্কায় এসব ম্যাচ ভারত থেকে সরানোর অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।










Discussion about this post