দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসরের বহুল আলোচিত জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। তবে বিপিএলের সূচনা পুরোপুরি আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া হচ্ছে না। ২৬ ডিসেম্বর টুর্নামেন্ট শুরুর দিনেই ম্যাচকে কেন্দ্র করে সীমিত পরিসরে উদ্বোধনী আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে বিসিবি।
সোমবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্স–বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। দেশের সামগ্রিক বাস্তবতা সামনে রেখে বারবার পরিকল্পনা পরিবর্তনের কথা স্বীকার করেন তিনি।
উদ্বোধনী আয়োজন কেন পরিবর্তন করা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করে ইফতেখার রহমান বলেন, ‘সবাই জানি যে, পরিস্থিতি একটু চ্যালেঞ্জিং। আমাদের বারবার পরিকল্পনা বদলাতে হচ্ছে। তো ২৪ তারিখে যেহেতু আমরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করতে পারছি না, এখন ২৬ তারিখে ম্যাচের দিনই ছোট করে আয়োজন করবো।’
সংক্ষিপ্ত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কী থাকবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি, ‘আমাদের প্রেসিডেন্ট সাহেব (আমিনুল ইসলাম বুলবুল) ও স্পোর্টস সেক্রেটারি (আসিফ নজরুল) ওনারা উদ্বোধন করবেন। সবার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করবেন। সাম্প্রতিক সময়ে ওসমান হাদীর মৃত্যুতে আমরা এক মিনিট নীরবতা পালন করবো। এর সঙ্গে একটি কনসার্টের আয়োজন করা হবে দুই ম্যাচের মাঝের বিরতিতে।’
সময়সূচির সীমাবদ্ধতার কারণে আয়োজন কেন ছোট রাখা হচ্ছে, সেটিও ব্যাখ্যা করেন মিঠু। তিনি বলেন, ‘প্রথম আয়োজনটি ১৫ মিনিটের মতো হবে। কারণ আমাদের সময় নেই। অন্তত আধ ঘণ্টা দিতে হয় দলগুলিকে গা গরম করতে। আড়াইটার মধ্যে আমাদের শেষ করতে হবে। জুমার নামাজের পরে ২টা ১৫-তে শুরু করে ১৫ মিনিটের মধ্যে এটা শেষ করা হবে। পরে দুই খেলার মাঝখানে যে সময়টা আছে, সেখানে ৪৫ মিনিটের ওই ছোট অনুষ্ঠানটা করব।’
পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী উদ্বোধনী দিনে প্রথম ম্যাচ শুরু হবে দুপুর ৩টায়। সেই ম্যাচে মুখোমুখি হবে নতুন দল সিলেট টাইটান্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে মাঠে নামবে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো শঙ্কা নাকচ করে দিয়ে বিসিবি পরিচালক আশ্বস্ত করেন, বিপিএলে অংশ নেওয়া সব দল ও সংশ্লিষ্টদের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে সিকিউরিটি, অন্যান্য দেশের চেয়ে আমাদের এখানে নিরাপত্তা কিন্তু টপমোস্ট লেভেলে দেয়। সেই টপমোস্ট লেভেলেই আপনার দেওয়া হচ্ছে। মানে এটার থেকে উপরে আর দেওয়ার কিছু নেই। দলের সঙ্গে এসকর্ট আছে, পুলিশ আছে, গার্ড আছে, র্যাব আছে, সবাই থাকবে। যেভাবে আন্তর্জাতিক দলগুলিকে আমরা ম্যানেজ করি, এখানেও একই পর্যায়ের হচ্ছে।’
বিদেশি ক্রিকেটার ও টুর্নামেন্ট সংশ্লিষ্টদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জিনিসটা হচ্ছে যে, সবার তো নিজেদেরও দায়িত্ব আছে। তাদের নিজেদের দায়িত্বে তারা যতটুকু সতর্ক থাকবেন। কিন্তু আমরা আমাদের পুরো সাপোর্ট দেব। এমনকি ধারাভাষ্যকার, টিভি প্রোডাকশন, উনাদের সবাইকে এক্সটেন্ড করা হচ্ছে।‘’
২৬ ডিসেম্বর সিলেট থেকেই শুরু হচ্ছে বিপিএলের দ্বাদশ আসর।










Discussion about this post