চলমান বিপিএলে হঠাৎ করেই তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা, যার কেন্দ্রে রয়েছে চট্টগ্রাম পর্ব। সিলেটে নিজেদের নির্ধারিত ম্যাচ শেষ করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাওয়ার কথা ছিল দলগুলোর, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই যাত্রা হচ্ছে না। এমন অবস্থায় ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’সহ কয়েকটি দল ঢাকায় ফিরে আসছে। কারণ সূচি ও লজিস্টিক জটিলতায় বিসিবি চট্টগ্রামে খেলা আয়োজন থেকে সরে আসতে হলো।
সবকিছুর সূত্রপাত ৩০ ডিসেম্বরের দুটি ম্যাচ স্থগিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে ওই দিনের ম্যাচগুলো মাঠে গড়ায়নি। পরদিন সাধারণ ছুটি থাকায় স্থগিত ম্যাচ দুটি নতুন করে ৪ জানুয়ারি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। এতে করে আগে থেকেই টানটান সূচি আরও জটিল হয়ে পড়ে এবং একের পর এক সমন্বয়হীনতা সামনে আসে।
মূল সূচি অনুযায়ী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত সিলেটে খেলা চলার কথা ছিল এবং ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রাম পর্ব। কিন্তু নতুন করে ৪ জানুয়ারি ম্যাচ যুক্ত হওয়ায় সিলেট ও চট্টগ্রামের মধ্যকার ব্যবধান কার্যত মিলিয়ে গেছে। নতুন সূচিতে এমন অবস্থাও তৈরি হয়েছে, যেখানে একটি দল ৪ জানুয়ারি রাতে সিলেটে খেলে পরদিন দুপুরেই চট্টগ্রামে নামার কথা ছিল। বাস্তবতা হলো, দুই শহরের দূরত্ব, খেলোয়াড় ও টিম স্টাফের যাতায়াত এবং সম্প্রচার সরঞ্জাম স্থানান্তরের সময়-সব মিলিয়ে এই পরিকল্পনা কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ায় বাতিল হলো ভেন্যু।
বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু স্বীকার করেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিকল্প খুব বেশি নেই। তিনি বলেন, ‘দুই ভেন্যুতে ম্যাচ নিয়ে আসতে হচ্ছে। চট্টগ্রামের দর্শক আর ম্যানেজমেন্টের কাছে আমরা দুঃখিত।’
১২ জানুয়ারি পর্যন্ত সিলেটে হবে বিপিএল ম্যাচ। আগের মতো ১৫ জানুয়ারি থেকে ঢাকা পর্ব শুরু। আর ফাইনাল ২৩ জানুয়ারি।
বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কথা বললেও নেপথ্যে অর্থনৈতিক বাস্তবতাও আলোচনায় এসেছে। একটি ভেন্যু কমে গেলে নিরাপত্তা, পরিবহন, আবাসন ও সম্প্রচার খাতে বড় অঙ্কের খরচ বাঁচানো সম্ভব। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দীর্ঘ ভ্রমণে অনাগ্রহ দেখিয়েছে বলেও জানা গেছে।










Discussion about this post