আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সৌম্য সরকারের শুরুটা ছিলমনে রাখার মতো। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পাওয়ার প্লেতে ঝোড়ো শুরু এনে দিয়ে দ্রুতই আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারায় গত এক দশক ধরে সৌম্যের ক্যারিয়ার যেন এক দোলাচলে কাটছে। বাংলাদেশের জার্সিতে একাধিকবার বাদ-পড়া এবং দলে ফেরা-এই যাত্রাপথে নিজের অবস্থান স্থায়ী করতে পারেননি এই বাঁহাতি ব্যাটার।
সাম্প্রতিক সময়েও ঘরোয়া ক্রিকেটে তেমন উজ্জ্বলতা দেখা যায়নি তার ব্যাটে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএলে বড় কোনো ইনিংস খুঁজে পাওয়া যায় না। যদিও গত বছর ডিসেম্বর মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নেলসনে ক্যারিয়ারসেরা ১৬৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন, কিন্তু সেই ফর্ম ধরে রাখতে পারেননি।
এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে আট মাস পর জাতীয় দলে ফেরেন তিনি। প্রথম ম্যাচে মাত্র ৪ রানে আউট হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন; ৮৯ বলে ৪৫ রান করেন। কিন্তু থিতু হওয়ার পরই সহজে উইকেট বিলিয়ে দেন এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যর্থ হন ফ্রি হিট কাজে লাগাতে।
মিরপুরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পেন্ডুলামের মতো ওঠানামা করে ম্যাচ শেষ পর্যন্ত গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানে মাত্র ১ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ, ফলে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে সৌম্য স্বীকার করেন, দীর্ঘদিন পর দলে ফেরার চাপ তাকে মানসিকভাবে কিছুটা প্রভাবিত করেছে। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন পর দলে এসে একটু নতুনত্ব লাগে, আবার খাপ খাইয়ে নিতে সময়ও লাগে। মানসিক চাপও কাজ করে। তবে সুযোগ পেলেই নিজেকে প্রমাণ করতে হয়, না পারলে আবার দলের বাইরে চলে যেতে হয়।’
সুপার ওভারে দলকে জেতানোর সুযোগ এসেছিল তার সামনে। কিন্তু ফ্রি হিটসহ একাধিক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো বাউন্ডারি তুলতে পারেননি। নিজের ব্যর্থতা অকপটে স্বীকার করেন সৌম্য, ‘আমার জায়গায় আমি ব্যর্থ। আত্মবিশ্বাস ছিল যে এখান থেকে একটা বাউন্ডারি নিতে পারব, কিন্তু উইকেটও সহজ ছিল না। বল অনেক পুরনো হয়ে গিয়েছিল, টার্নও ছিল বেশি। তিনটা ফ্রি হিট পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি-এখানেই আমার ঘাটতি।’
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসে এটি ছিল প্রথম সুপার ওভার ম্যাচ। ১১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় টাই হওয়া ম্যাচে ৫ বলে ৬ রান তুলতে না পারায় হতাশা ছড়ায় পুরো দলে। ক্রিকেটারদের পাশাপাশি টিম ম্যানেজমেন্টও সমালোচনার মুখে পড়েছে। সৌম্যর ব্যর্থতা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
স্পিন সহায়ক উইকেটে রান তোলার কঠিনতাও তুলে ধরেন তিনি। সৌম্য বলেন, ‘বড় শট খেলতে গেলে উইকেটের সহায়তা লাগে। বল ধীরে আসছিল, টার্নও ছিল অনেক। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে বড় শট খেলতে হয়, সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেটিই এখন সিরিজ নির্ধারণী। ম্যাচটি মিরপুরে আগামীকাল বেলা দেড়টায় শুরু হবে। এরপর ২৭, ২৯ ও ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সেখানে সৌম্য সরকার সুযোগ পাবেন কিনা, সেটি সময়ই বলে দেবে।










Discussion about this post